পাথরঘাটা প্রতিনিধি : বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার কাকচিড়া ইউনিয়নের বাইনচটকী এলাকায় পৈত্রিক জমিতে বসতঘর নির্মাণ করতে গিয়ে হামলা, ছিনতাই ও বাধার শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. আবদুল বারী হাওলাদার। শনিবার সকাল ১১টায় পাথরঘাটা প্রেসক্লাব-এ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আবদুল বারী হাওলাদার জানান, তিনি ও তার ভাই-বোনেরা কাকচিড়ার বাইনচটকী গ্রামে পৈত্রিক সূত্রে প্রাপ্ত জমির বৈধ মালিক। চাকরি থেকে অবসরে যাওয়ার পর সেখানে বসতঘর নির্মাণকাজ শুরু করলে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি তার কাছে চাঁদা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা বিভিন্ন সময় ভয়ভীতি প্রদর্শন ও নির্মাণকাজে বাধা দিতে থাকেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ভুক্তভোগীর দাবি, গত ১৪ মে সকালে ঘর থেকে বের হওয়ার সময় স্থানীয় কয়েকজন তার ওপর হামলা চালায়। অভিযুক্তদের মধ্যে মো. আলমগীর, আইয়ুব আলী, শহিদুল, মিলন, আব্দুল মালেক ও মকবুলের নাম উল্লেখ করেন তিনি। হামলার সময় তার কাছ থেকে জমির গুরুত্বপূর্ণ দলিলপত্র, নগদ ৬৩ হাজার টাকা, দুটি স্বর্ণের আংটি ও একটি হাতঘড়ি ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এ সময় ধস্তাধস্তিতে তিনি আহত হন।
ঘটনার পর তিনি পাথরঘাটা থানা-এ লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে বলে জানান তিনি। আহত অবস্থায় তাকে পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-এ চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে চিকিৎসকরা উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় যাওয়ার পরামর্শ দেন।
আবদুল বারী হাওলাদার আরও বলেন, নির্মাণাধীন বসতঘরের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ কাজ সম্পন্ন হলেও অভিযুক্তরা এখনো অবশিষ্ট কাজ শেষ করতে বাধা দিচ্ছেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, “গত ১৪ মে তারা আমাকে মারধর করে আমার সর্বস্ব ছিনিয়ে নেয়।”
তবে অভিযুক্তরা হামলা ও মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
এ বিষয়ে পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এনামুল হক বলেন, “বারী হাওলাদার মারধরের অভিযোগে থানায় একটি লিখিত আবেদন দিয়েছেন। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।”
দৈনিক শেষকথা Seshkatha News