নিজস্ব প্রতিবেদক: বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার কালমেঘা খালে পানি না থাকায় চরম সংকটে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। খালটি প্রায় শুকিয়ে যাওয়ায় আলুচাষে দেখা দিয়েছে সেচ সংকট, ফলে অনেক ক্ষেতেই শুকিয়ে যাচ্ছে আলুর গাছ। এ অবস্থায় খাল পুনঃখননের দাবিতে মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকালে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় কৃষক ও বাসিন্দারা।
স্থানীয়দের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এ মানববন্ধনে কলসি ও জাল নিয়ে অংশ নেন কৃষক পরিবারের সদস্যরা। দক্ষিণ কুপদোন আলুচাষি সমিতির আয়োজনে অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে খালটি দ্রুত পুনঃখননের দাবি জানানো হয়।
কৃষকদের ভাষ্য, একসময় কালমেঘা খাল ছিল দক্ষিণ কুপদোন গ্রামের প্রাণ। বিষ খালি নদী থেকে কালমেঘা বাজার পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ এই খাল দিয়ে সেচের পানি পেতেন কৃষকরা। কিন্তু বর্তমানে খালের বুকজুড়ে কাদা জমে গেছে, কোথাও জন্মেছে ঘাস। ফলে খালে পানি নেই বললেই চলে।
মঙ্গলবার সকালে খাল পুনঃখননের দাবিতে মানববন্ধন শেষে অনুষ্ঠিত সমাবেশে দক্ষিণ কুপদোন আলুচাষি সমিতির সভাপতি মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন সমাজকর্মী গোলাম মোস্তফা, ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর আলম, আনোয়ার হাজী, পরিবেশকর্মী আরিফুর রহমান, শফিকুল ইসলাম খোকন, মো. জসীম উদ্দিনসহ স্থানীয়রা।
কৃষকদের অভিযোগ, আগে এই খাল থেকেই সেচের পানি পাওয়া যেত। এখন বাধ্য হয়ে দূরের পুকুর থেকে পানি এনে জমিতে সেচ দিতে হচ্ছে। এতে খরচ বাড়ছে, সময়ও নষ্ট হচ্ছে।
কূপদোন গ্রামের কৃষক ও গ্রাম পুলিশ খলিলুর রহমান বলেন, “আগে এক বিঘা জমিতে আলু চাষ করতে যে খরচ হতো, এখন তার চেয়ে অনেক বেশি লাগে। শুধু পানির জন্যই আলাদা খরচ করতে হচ্ছে। লাভ তো দূরের কথা, অনেক সময় খরচই ওঠে না।”
স্থানীয়দের মতে, একসময় এই এলাকার কয়েকশ একর জমিতে আলু চাষ হতো। কিন্তু পানি সংকটের কারণে অনেক কৃষক এখন আলু চাষ কমিয়ে দিচ্ছেন, কেউ আবার অন্য ফসলে ঝুঁকছেন।
তাদের দাবি, কালমেঘা খাল পুনঃখনন করা হলে সেচব্যবস্থা সহজ হবে, খরচ কমবে এবং আবারও আলু চাষ বাড়বে। এতে কৃষকদের পাশাপাশি এলাকার কৃষিনির্ভর অর্থনীতিও শক্তিশালী হবে।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া এক প্রবীণ কৃষক বলেন, “এই খালটা আমাদের বাঁচার পথ। খাল থাকলে আমরা বাঁচি, না থাকলে চাষই বন্ধ হয়ে যাবে।”
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা পলাশ চন্দ্র ঘোষ বলেন, স্থানীয় সেচব্যবস্থার সংকট কৃষি উৎপাদনের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। তিনি জানান, রূপদোন ও কূপদোন এলাকায় এর প্রভাব ইতোমধ্যে স্পষ্ট। এ বছর এই দুই এলাকায় ৫০৬ হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছে, যেখানে গত বছর ছিল ৫৬০ হেক্টর।
তিনি আরও জানান, খাল পুনঃখননের জন্য যে তালিকা পাঠানো হয়েছে সেখানে কালমেঘা খালকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জানান, উপজেলার বিভিন্ন খাল পুনঃখননের কাজ চলমান রয়েছে। পর্যায়ক্রমে কালমেঘা খালকেও এই কার্যক্রমের আওতায় আনা হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
দৈনিক শেষকথা Seshkatha News