বরগুনা প্রতিনিধি: বরগুনা সদর উপজেলার উত্তর বাঁশবুনিয়া গ্রামে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় অবৈধভাবে একটি করাতকল (স’মিল) স্থাপনকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়াই করাতকলটি পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মো. জামাল হোসেন নামে এক ব্যক্তি কোনো ধরনের বৈধ লাইসেন্স ছাড়াই বসতবাড়ি ঘেরা এলাকায় করাতকল স্থাপন করে কাঠ চেরাই কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। মিলটি বরগুনা-চালিততলী সড়কের পাশেই হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে, করাতকলের সামনে ও আশপাশে গাছের গুঁড়ি ও কাঠের স্তুপ রাস্তার ওপর ফেলে রাখায় যানবাহন চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এতে প্রতিদিন ভোগান্তিতে পড়ছেন পথচারী ও যানবাহনের চালকরা।
এছাড়া কাঠ চেরাইয়ের সময় সৃষ্ট তীব্র শব্দদূষণ, বাতাসে ছড়িয়ে পড়া কাঠের গুঁড়া এবং বর্জ্য স্থানীয় পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগে আক্রান্তদের জন্য পরিস্থিতি দিন দিন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।
ভুক্তভোগী স্থানীয় বাসিন্দা আলহাজ মো. গোলাম কিবরিয়া বলেন,
“এই করাতকলের কারণে আমরা চরম ভোগান্তিতে আছি। দিন-রাত শব্দে স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হচ্ছে, আর কাঠের গুঁড়ার কারণে শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। এখন আবার রাস্তার ওপর গাছের স্তুপ থাকায় চলাচলও কঠিন হয়ে পড়েছে।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, অবৈধভাবে কাঠ সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে বনজসম্পদও হুমকির মুখে পড়ছে। সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী জনবসতিপূর্ণ এলাকায় যথাযথ অনুমোদন ছাড়া করাতকল স্থাপন নিষিদ্ধ হলেও এ ক্ষেত্রে তা মানা হয়নি।
তবে করাতকলের মালিক মো. জামাল হোসেন বলেন,
“আমি যখন শুরুতে মিল স্থাপনের কাজ শুরু করি, তখন যদি স্থানীয়রা বাধা দিত, তাহলে এখানে স্থাপন করতাম না। কাগজপত্রের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে, খুব শিগগিরই সব অনুমোদন পেয়ে যাবো।”
এ বিষয়ে বরগুনা বন বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে এলাকাবাসী দ্রুত তদন্তপূর্বক অবৈধ এই করাতকলের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ ও অবিলম্বে উচ্ছেদের দাবি জানিয়েছেন। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পরিবেশ, জনস্বাস্থ্য ও সড়ক নিরাপত্তার ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব আরও বাড়বে।
দৈনিক শেষকথা Seshkatha News