আমতলী প্রতিনিধি: বরগুনার আমতলীতে ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনের আওতায় সরেজমিনে সামারি ট্রায়ালের মাধ্যমে দুই দখলদারকে কারাদণ্ড প্রদান ও প্রকৃত মালিককে জমির দখল বুঝিয়ে দিয়েছে বিজ্ঞ আদালত।
বরগুনার আমতলীতে ভূমি দখলের মতো গুরুতর অপরাধ দমনে দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে স্থানীয় বিচার বিভাগ। গত ৮ জুন সোমবার বিকেলে আমতলী উপজেলা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিজ্ঞ বিচারক ইফতি হাসান ইমরান পূর্ব চুনাখালী গ্রামে সরেজমিনে উপস্থিত হয়ে সামারি ট্রায়াল বা সংক্ষিপ্ত বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন। অবৈধভাবে অন্যের জমি দখল করে স্থাপনা নির্মাণের দায়ে মোঃ ইসমাইল মাওলানা ও মোঃ মাহাবুব নামের দুই ব্যক্তিকে সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। একই সঙ্গে আদালতের নির্দেশে বেদখল হওয়া জমির ওপর নির্মিত অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে প্রকৃত মালিক মোসাঃ রেবেকার কাছে জমির দখল বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিচারিক প্রক্রিয়ার এই তাৎক্ষণিক প্রয়োগ ভূমি অপরাধীদের মধ্যে কঠোর বার্তা পৌঁছে দিয়েছে এবং সাধারণ মানুষের ন্যায়বিচার প্রাপ্তির প্রত্যাশাকে ত্বরান্বিত করেছে।
ভুক্তভোগী মোসাঃ রেবেকা গত ১ জুন ২০২৬ তারিখে বিজ্ঞ আদালতে সিআর ৭৪০/২৬ মামলাটি দায়ের করেন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয় যে, বিবাদীরা আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে তার পৈতৃক বা ক্রয়কৃত জমি অবৈধভাবে দখল করে রেখেছিল এবং সেখানে জোরপূর্বক ঘর নির্মাণ করেছিল। ভুক্তভোগীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে আদালত সরাসরি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। স্থানীয় এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় থাকা এই দখলদাররা দীর্ঘদিন ধরে নিরীহ মানুষকে হয়রানি করে আসছিল। আদালতের এই সাহসী পদক্ষেপে স্থানীয়দের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে এবং তারা আশা প্রকাশ করছেন যে, এই ধরনের আইনি প্রতিকার ভূমি দস্যুদের দৌরাত্ম্য কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
সংশ্লিষ্ট আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন অনুযায়ী দ্রুত বিচার সম্পন্ন করার ক্ষমতা আদালতের রয়েছে, যা দীর্ঘসূত্রতা কমিয়ে ভুক্তভোগীকে তাৎক্ষণিক সুরক্ষা দেয়। মামলার শুনানিতে অভিযুক্তরা তাদের স্বপক্ষে কোনো বৈধ প্রমাণ উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হওয়ায় বিচারক তাৎক্ষণিক দণ্ডের আদেশ দেন। প্রশাসনের এই সক্রিয় ভূমিকা প্রমাণ করে যে, ভূমি সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তিতে এখন আর বছরের পর বছর অপেক্ষা করার প্রয়োজন নেই, বরং আইনের সঠিক প্রয়োগের মাধ্যমে দ্রুত প্রতিকার সম্ভব। স্থানীয় প্রশাসন এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে উচ্ছেদ অভিযানটি সম্পন্ন হওয়ায় এলাকায় কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়নি এবং আদালতের আদেশ কঠোরভাবে কার্যকর করা হয়েছে।
এই ঘটনাটি কেবল আমতলী নয়, বরং জাতীয় পর্যায়ে ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে একটি নতুন মডেল হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। আদালতের এই সামারি ট্রায়াল পদ্ধতি সাধারণ মানুষের মধ্যে আইন ও বিচার ব্যবস্থার প্রতি আস্থা বাড়াতে সহায়ক হবে। ভবিষ্যতে ভূমি দখল সংক্রান্ত অপরাধ নিয়ন্ত্রণে এই ধরনের কঠোর নজরদারি এবং দ্রুত বিচারিক প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকলে পরিবহন বা অবকাঠামো উন্নয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে জমির মালিকানা সংক্রান্ত জটিলতা কমে আসবে। আমতলী আদালতের এই রায় বিচারপ্রার্থী মানুষের জন্য একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে এবং একই সঙ্গে ভূমিদস্যু চক্রের জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে।
দৈনিক শেষকথা Seshkatha News