পাথরঘাটা প্রতিনিধি : বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার কালমেঘা ইউনিয়নে এক বাকপ্রতিবন্ধী ও মানসিক ভারসাম্যহীন তালাকপ্রাপ্ত নারীর কন্যাসন্তান প্রসবের ঘটনাটি স্থানীয় জনমনে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। গত ১ জুলাই বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নিজ বাড়িতেই ওই নারী সন্তান জন্ম দেন। পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় আট বছর আগে থেকেই তিনি মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন এবং বাকশক্তিহীন হয়ে পড়েন। পরিস্থিতির জটিলতায় আড়াই বছর আগে তার বিবাহবিচ্ছেদ সম্পন্ন হয় এবং দীর্ঘ ছয় বছরের দাম্পত্য জীবনের ইতি ঘটে। এরপর থেকেই তিনি তার বাবার আশ্রয়ে বসবাস করছিলেন। ঘটনার আকস্মিকতায় এলাকাজুড়ে যেমন বিস্ময় তৈরি হয়েছে, তেমনি ওই নারীর অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে কেউ অমানবিক অপরাধ সংঘটন করেছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে জনমনে। ঘটনার পর থেকেই নবজাতকের পিতৃপরিচয় নিয়ে রহস্য দানা বেঁধেছে, যা স্থানীয় সামাজিক ও প্রশাসনিক পরিমণ্ডলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। ভুক্তভোগীর পরিবারের দাবি অনুযায়ী, মেয়েটি শারীরিক ও মানসিকভাবে এতটাই বিপর্যস্ত যে তিনি একা কোথাও যাওয়ার সক্ষমতা রাখেন না, এমনকি নিজের মনের ভাব প্রকাশের ভাষাও তার নেই। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মেয়েটি যে গর্ভবতী ছিল তা প্রসবের আগমুহূর্ত পর্যন্ত তাদের গোচরে আসেনি। বাবা অত্যন্ত হতাশার সুরে জানান যে, তার মেয়ে যেহেতু কথা বলতে পারে না, তাই এই অমানবিক ঘটনার নেপথ্যের ব্যক্তি বা ঘটনার বিবরণ জানা পরিবারের জন্য অসম্ভব হয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা মনে করছেন, একজন অসহায় ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন নারীর এই পরিস্থিতির পেছনে কোনো প্রভাবশালী বা বিকৃত মানসিকতার ব্যক্তির হাত থাকতে পারে। ভুক্তভোগীর পরিবারের অর্থনৈতিক ও সামাজিক সীমাবদ্ধতা তাদের আইনি লড়াইয়ে নামার ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে, যার ফলে প্রকৃত অপরাধী আড়ালে থেকে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিরা ওই নারীর বাড়িতে ভিড় করেন। স্থানীয় বিএনপি নেতা রাজ্জাক শেখ ও জুলফিকার আলীসহ অন্যান্যরা এই ঘটনাকে চরম নিন্দনীয় ও অমানবিক বলে আখ্যা দিয়েছেন এবং দোষীদের দ্রুত চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তবে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এখন পর্যন্ত ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অভিযোগ পেলে ঘটনার সত্যতা যাচাই এবং ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পিতৃপরিচয় শনাক্তসহ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কর্তৃপক্ষের এই অবস্থান প্রমাণ করে যে, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার অভাবে অপরাধীরা পার পেয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে। এই ঘটনাটি কেবল একটি বিচ্ছিন্ন অপরাধ নয়, বরং সমাজের প্রান্তিক ও অসহায় নারীদের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে একটি বড় সতর্কবার্তা। বাকপ্রতিবন্ধী ও মানসিক ভারসাম্যহীন নারীর ওপর এমন পাশবিকতা সমাজের নৈতিক অবক্ষয়েরই প্রতিফলন। ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে না পারলে ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ প্রবণতা আরও বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমানে নবজাতকের পিতৃপরিচয় শনাক্তকরণ এবং ওই পরিবারটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন স্থানীয় প্রশাসনের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ। ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অপরাধীকে আইনের আওতায় আনার মাধ্যমে দৃষ্টান্ত স্থাপন করা না গেলে, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন নারীরা ক্রমাগত সমাজ ও অপরাধীদের নিশানায় পরিণত হতে থাকবে, যা জননিরাপত্তার জন্য দীর্ঘমেয়াদী হুমকি স্বরূপ।
বরগুনায় বাকপ্রতিবন্ধী নারীর সন্তানের জন্ম: পিতৃপরিচয় নিয়ে রহস্য!
- প্রকাশের সময় : Jul 1, 2026 ইং
ছবির ক্যাপশন: বরগুনায় বাকপ্রতিবন্ধী নারীর সন্তানের জন্ম: পিতৃপরিচয় নিয়ে রহস্য!
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
দৈনিক শেষকথা Seshkatha News