পাথরঘাটা (বরগুনা) প্রতিনিধি: বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির নতুন কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় শিক্ষকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও বিভক্তি দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. আবুল কাসেম ও সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান শাহীন স্বাক্ষরিত এক পত্রের মাধ্যমে এ কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়।
জানা গেছে, সমিতির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী উপজেলা কমিটি ৫১ সদস্যের হওয়ার কথা থাকলেও নতুন কমিটি করা হয়েছে ৬১ সদস্য নিয়ে। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষক সমাজে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।
শিক্ষকদের অভিযোগ, কমিটি গঠনে গঠনতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সভাপতি প্রধান শিক্ষকদের মধ্য থেকে এবং সাধারণ সম্পাদক সহকারী শিক্ষকদের মধ্য থেকে নির্বাচিত হওয়ার কথা থাকলেও এবার সে নিয়ম মানা হয়নি বলে দাবি করা হয়েছে। অতীতে নির্বাচনের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্ধারণ করা হলেও এবার সাধারণ শিক্ষকদের মতামত ছাড়াই কেন্দ্র থেকে কমিটি চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এছাড়া অনেক সিনিয়র প্রধান শিক্ষককে বাদ দিয়ে জুনিয়র সহকারী শিক্ষকদের গুরুত্বপূর্ণ পদে রাখা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন শিক্ষকরা। নতুন কমিটির কয়েকজন সদস্যের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, শিক্ষকতা একটি সম্মানজনক পেশা। সাধারণ শিক্ষকদের মতামত উপেক্ষা করে ব্যক্তিগত সুপারিশে ‘পকেট কমিটি’ গঠন করা হলে তা শিক্ষক সমাজের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করে। তাদের দাবি, শিক্ষকদের ভোটের মাধ্যমে স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করে নেতৃত্ব নির্বাচন করতে হবে।
শিক্ষানুরাগীদের মতে, শিক্ষকদের মধ্যে দলাদলি ও অসন্তোষ সৃষ্টি হলে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পাঠদান ও একাডেমিক পরিবেশ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। অগঠনতান্ত্রিক কমিটির কারণে প্রশাসনিক কাজে হস্তক্ষেপ ও স্কুল ফাঁকির মতো অভিযোগও সামনে আসছে, যা দীর্ঘমেয়াদে প্রাথমিক শিক্ষার মানকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
তবে এ বিষয়ে বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান শাহীন বলেন, পাথরঘাটা উপজেলা কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে যে মতভেদ ও অসন্তোষের বিষয়টি সামনে এসেছে তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। স্থানীয় শিক্ষকরা লিখিতভাবে জানালে বিষয়টি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দৈনিক শেষকথা Seshkatha News