নিজস্ব প্রতিবেদক: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনায় এসেছে সংরক্ষিত নারী আসন। সরকার গঠনের পর এই আসনগুলোতে কাদের মনোনয়ন দেওয়া হবে—তা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা ও হিসাব-নিকাশ। বিশেষ করে বরিশাল বিভাগে বিএনপির বিপুল বিজয়ের পর সংরক্ষিত নারী আসন ঘিরে নেত্রীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে ব্যাপক আগ্রহ ও প্রতিযোগিতা।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল বিভাগের ২১টি সাধারণ আসনের মধ্যে বিএনপি ১৮টিতে জয় পাওয়ায় আনুপাতিক হিসেবে দলটি এখান থেকে ৩টি সংরক্ষিত নারী আসন পেতে পারে। এই তিনটি আসনের মনোনয়ন পেতেই মাঠে সক্রিয় হয়েছেন অন্তত ৩৫ জন নারী নেত্রী।
দলের কেন্দ্রীয় নেতারা জানিয়েছেন, বিগত সময়ের আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা রাখা ও নির্যাতিত নেত্রীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হতে পারে। ফলে ত্যাগ ও সাংগঠনিক অবদান এখন মনোনয়নের মূল বিবেচ্য বিষয় হিসেবে সামনে এসেছে।
বরিশাল মহানগর থেকে আলোচনায় রয়েছেন মহানগর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আফরোজা নাসরিন। তিনি দাবি করেন, “আমি ৯ বার কারাবরণ করেছি, ৫৫টি মামলা মোকাবিলা করেছি। ত্যাগের মূল্যায়ন হলে আমি আশাবাদী।”
এছাড়া মহানগর মহিলা দলের সভাপতি ফারহানা আলম তিথি বলেন, “দলের দুর্দিনে মাঠে ছিলাম, চাকরিজীবনে নানা প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে কাজ করেছি—আশা করি মূল্যায়ন পাবো।”
ঝালকাঠী থেকে প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য জিবা আমিনা আল গাজী। তিনি বলেন, “দল আমাকে যেখানে প্রয়োজন মনে করবে, সেখানেই কাজ করবো—সিদ্ধান্ত দলের।”
ভোলা জেলায় মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন খালেদা খানম, সাজেদা বেগম, ইসরাত জাহান বনি ও নূরজাহান বেগম বিউটি। তাদের প্রত্যাশা, দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক অবদান মূল্যায়িত হবে।
বরগুনা জেলায় আলোচনায় আছেন নূর শাহানা হক, আসমা আজিজ, অ্যাডভোকেট রঞ্জুয়ারা শিপু, মেহবুবা আক্তার জুঁই, শারমিন সুলতানা আসমা, নাজমুন নাহার পাপড়ি, মারজিয়া হিরা ও মীরা খান এবং বরগুনা জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ফারুক মোল্লার কন্যা রিক্তা। এদের মধ্যে আসমা আজিজ বলেন, “দীর্ঘদিন রাজপথে সক্রিয় ছিলাম, হামলা-মামলার শিকার হয়েছি—দল ডেডিকেশন ও যোগ্যতার ভিত্তিতে মূল্যায়ন করবে বলে আশা করি।”
পিরোজপুরে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন এলিজা জামান, রহিমা আক্তার হাসি ও সুলতানা জেসমিন জুঁই। এলিজা জামান বলেন, “দলীয় আন্দোলনে অংশ নিতে গিয়ে কারাবরণ করেছি—আমার ত্যাগ দল বিবেচনা করবে।”
পটুয়াখালীতে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের তালিকায় আছেন সালমা আলম লিলি, আফরোজা বেগম সীমা, ফারজানা রুমা, লায়লা ইয়াসমিন ও সাজিয়া মাহমুদ লিনা। ফারজানা রুমা বলেন, “সংগ্রামের সামনের সারিতে থেকেছি, ত্যাগের মূল্যায়নে আমি আশাবাদী।”
এছাড়াও বিভাগের ছয়টি জেলা মিলিয়ে আরও অন্তত ১৫ জন নেত্রী সংরক্ষিত নারী আসনে এমপি হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
তৃণমূল নেতাকর্মীদের মতে, মনোনয়নের ক্ষেত্রে ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেত্রীদের অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। অন্যথায় ভবিষ্যতে আন্দোলন-সংগ্রামে নেত্রীদের আগ্রহ কমে যেতে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন তারা।
সব মিলিয়ে, সংরক্ষিত নারী আসনের এই প্রতিযোগিতা এখন বরিশাল অঞ্চলের রাজনৈতিক অঙ্গনে অন্যতম আলোচিত ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। এখন দেখার বিষয়—দল শেষ পর্যন্ত কাদের ওপর আস্থা রাখে।
দৈনিক শেষকথা Seshkatha News