তালতলী প্রতিনিধি: বরগুনার তালতলীর হুলাটানা গ্রামে পূর্ব শত্রুতার জেরে বাহাদুর প্যাদাকে হত্যার উদ্দেশ্যে বাড়িতে হামলা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। তাকে না পেয়ে হামলাকারীরা তার দুইটি গরুকে কুপিয়ে জখম করেছে।
বরগুনার তালতলী উপজেলার পঁচাকোড়ালিয়া ইউনিয়নের হুলাটানা গ্রামে গত বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে এক ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় বাসিন্দা বাহাদুর প্যাদাকে হত্যার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে ২০ থেকে ২৫ জনের একটি সশস্ত্র দল তার বসতবাড়িতে অতর্কিত হানা দেয়। হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে এলাকায় প্রবেশ করে এবং বাহাদুর প্যাদাকে খুঁজে বের করার চেষ্টা চালায়। তবে লক্ষ্যবস্তু বাহাদুর প্যাদা বাড়িতে উপস্থিত না থাকায় ক্ষিপ্ত হয়ে হামলাকারীরা তার গোয়ালে থাকা দুইটি গরুর ওপর চড়াও হয়। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গরু দুটিকে মারাত্মকভাবে জখম করে দুর্বৃত্তরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। এ ঘটনায় পুরো এলাকা জুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এবং স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
ভুক্তভোগী বাহাদুর প্যাদা অভিযোগ করেছেন যে, দীর্ঘ সময় ধরে একটি প্রভাবশালী মহল তাকে হত্যার হুমকি দিয়ে আসছিল। তিনি সরাসরি ছত্তার হাওলাদারের নেতৃত্বে হামেজ মৃধা, নাশির মৃধা, জসিম মৃধা, জুয়েল হাওলাদার ও নজরুলসহ একটি বিশাল দল তার বাড়িতে হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছেন। বাহাদুর প্যাদার ভাষ্যমতে, তাকে না পেয়ে তার জীবিকার প্রধান মাধ্যম গরুগুলোকে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে, যা কেবল প্রতিহিংসার বহিঃপ্রকাশ নয়, বরং একটি পরিকল্পিত ভয়ভীতি প্রদর্শনের কৌশল। এদিকে, তালতলী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের উপসহকারী কর্মকর্তা সঞ্জয় সিকদার জানিয়েছেন, ভুক্তভোগী গরু দুটির গলায় ধারালো অস্ত্রের গভীর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। প্রাণিসম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকে গরু দুটিকে তাৎক্ষণিক প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছে, তবে তাদের শারীরিক অবস্থা এখনো শঙ্কামুক্ত নয় বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ঘটনার বিষয়ে অভিযুক্ত ছত্তার হাওলাদারের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তার মেয়ে লাইলী দাবি করেন, তার বাবা ঘটনার সময় বাড়িতে ছিলেন না। তবে এ ধরনের বর্বরোচিত কর্মকাণ্ডের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি কোনো সদুত্তর না দিয়েই ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন, যা রহস্যের সৃষ্টি করেছে। অন্যদিকে, তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ সাইদুল ইসলাম জানিয়েছেন যে, বিষয়টি পুলিশ অবগত আছে এবং এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। স্থানীয়রা বলছেন, হামলাকারীরা প্রভাবশালী হওয়ায় সাধারণ মানুষ মুখ খুলতে ভয় পাচ্ছে এবং এলাকায় এক ধরনের অঘোষিত অস্থিরতা বিরাজ করছে। অভিযুক্তদের দ্রুত আইনের আওতায় না আনা হলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের সহিংসতা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে বলে স্থানীয়রা মনে করছেন।
একটি তুচ্ছ বা পূর্ব শত্রুতার জেরে বসতবাড়িতে ঢুকে পশু হত্যার এই ঘটনা গ্রামীণ জনপদের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিয়েছে। অপরাধীদের বিরুদ্ধে দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা না করা হলে এলাকায় অপরাধ প্রবণতা আরও বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ব্যক্তিগত আক্রোশ মেটাতে নিরীহ পশুর ওপর এমন নৃশংসতা আইন-শৃঙ্খলার চরম অবনতির প্রতিফলন। বর্তমান পরিস্থিতিতে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ বাহিনীকে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং অভিযুক্তদের অবিলম্বে গ্রেপ্তারে কঠোর অবস্থানে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন মহল। এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারই কেবল এলাকায় শান্তি ফিরিয়ে আনতে পারে এবং একই সাথে অপরাধীদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করতে পারে।
দৈনিক শেষকথা Seshkatha News