নিজস্ব প্রতিবেদক: বরগুনার বেতাগী উপজেলায় টিআর (টেস্ট রিলিফ) ও কাবিখা (কাজের বিনিময়ে খাদ্য) কর্মসূচির জন্য নিম্নমানের চাল সংগ্রহের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হতদরিদ্র ও কর্মহীন মানুষের সহায়তায় সরকারের বিশেষ কর্মসূচির আওতায় প্রায় ৬৫০ মেট্রিক টন চাল সংগ্রহ করা হয়। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, এসব চালের মান অত্যন্ত নিম্নমানের। চালের মধ্যে ভাঙা পাথরের কণা, পোকা, ধুলাবালি এবং দুর্গন্ধ পাওয়া গেছে বলে দাবি করেন উপকারভোগীরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বেতাগী উপজেলার বিভিন্ন মসজিদ ও মন্দির উন্নয়ন কাজে বরাদ্দকৃত এসব চাল মানবিক সহায়তার পরিবর্তে অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ফলে অনেক উপকারভোগী বাধ্য হয়ে কম দামে চাল বিক্রি করে বাজার থেকে মানসম্মত চাল কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।
এ বিষয়ে অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট মনির হোসেন লাভলু বলেন, সরকারের বরাদ্দকৃত চাল মানসম্মত হওয়ার কথা থাকলেও সংগ্রহের সময় যথাযথভাবে মান যাচাই করা হয়নি। তার দাবি, খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তার অবহেলার কারণেই নিম্নমানের চাল সংগ্রহ করা হয়েছে।
বেতাগী উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসাইন বলেন, দরিদ্র মানুষের জন্য বরাদ্দ খাদ্য সহায়তায় এ ধরনের অনিয়ম অত্যন্ত দুঃখজনক। তিনি দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
অভিযোগ অস্বীকার করে বেতাগী উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা মো. কবির হোসেন বলেন, নিয়ম অনুযায়ী মান যাচাই করেই চাল সংগ্রহ করা হয়েছে। কেউ অভিযোগ করলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের পক্ষ থেকে দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।
দৈনিক শেষকথা Seshkatha News