ক্যাম্পেইনটিকে কেন্দ্র করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে, যেখানে ২২ হাজার ২৭০ জন শিশুকে ভিটামিন এ প্লাস ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এই ক্যাম্পেইনের গুরুত্ব অপরিসীম হলেও মাঠপর্যায়ে এর সফল বাস্তবায়ন নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির তাগিদ দেওয়া হয়েছে। সভায় উপস্থিত আমতলী থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ইয়াকুব হোসাইনসহ অন্যান্য চিকিৎসা কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে তথ্য প্রচার এবং অভিভাবকদের উদ্বুদ্ধ করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। ভুক্তভোগী বা দুর্গম এলাকার শিশুদের কথা বিবেচনায় নিয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পক্ষ থেকে বিশেষ মনিটরিং ব্যবস্থা রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। ডা. মো. মোস্তাফিজুর রহমান, ডা. হিমেল পাল এবং ডা. মো. হুমায়ুন ইসলাম সুমনসহ সভায় উপস্থিত অন্যান্য বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন যে, শিশুদের রাতকানা রোগ প্রতিরোধ এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য এই ক্যাপসুল অত্যন্ত কার্যকর, তাই প্রতিটি পরিবারের দায়িত্ব হলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শিশুকে নিকটস্থ কেন্দ্রে নিয়ে আসা।
প্রশাসনিক ও স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে আয়োজিত এই সভায় স্থানীয় পর্যায়ে ক্যাপসুল বিতরণে কোনো ধরনের গাফিলতি সহ্য করা হবে না বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগ এবং স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ক্যাম্পেইনের দিন প্রতিটি কেন্দ্রে পর্যাপ্ত ক্যাপসুল সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবকদেরও বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আশরাফুল ইসলাম সভায় বলেন যে, সরকারের এই জনকল্যাণমুখী কর্মসূচি বাস্তবায়নে কোনো ধরনের শৈথিল্য প্রদর্শনের সুযোগ নেই। তিনি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানান যাতে প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রতিটি শিশু এই ক্যাম্পেইনের আওতায় আসে। স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা চিন্ময় হাওলাদার সভায় নিশ্চিত করেন যে, গত বছরের তুলনায় এবার লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে স্বাস্থ্য বিভাগ অধিকতর সতর্ক এবং প্রতিটি কেন্দ্রে কঠোর তদারকি ব্যবস্থা চালু রাখা হবে যাতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি না হয়।
ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইনের এই উদ্যোগ শুধুমাত্র শিশুদের পুষ্টির অভাব দূর করবে না বরং জনস্বাস্থ্যের মানোন্নয়নে একটি টেকসই ভিত্তি তৈরি করবে। আমতলী উপজেলার মতো জনবহুল এলাকায় এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সফলভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হলে তা ভবিষ্যতে অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমের জন্য একটি রোল মডেল হিসেবে কাজ করবে। ক্যাম্পেইন পরবর্তী সময়ে শিশুদের স্বাস্থ্যের ওপর এর ইতিবাচক প্রভাব পর্যবেক্ষণ করা হবে এবং নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে স্থানীয় ক্লিনিকগুলোকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সামগ্রিকভাবে, এই ক্যাম্পেইনটি শিশুদের ভবিষ্যৎ সুস্থতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে গণ্য হচ্ছে, যা স্থানীয় পর্যায়ের স্বাস্থ্য অবকাঠামোকে আরও শক্তিশালী করবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
দৈনিক শেষকথা Seshkatha News