বরগুনা জেলা প্রতিনিধি: ৩২ বছর আগে ১৬ বছর বয়সে বরগুনা থেকে নিখোঁজ হওয়া আছিয়ার সন্ধান মিলেছে পাকিস্তানে। দীর্ঘ তিন দশকের বেশি সময় পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের একটি পোস্টের মাধ্যমে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করেছেন তিনি। বর্তমানে পাকিস্তানে ৬ মেয়ে ও ১ ছেলে সন্তানের জননী আছিয়া। স্বামী মারা যাওয়ার পর দেশে থাকা বাবা ও স্বজনদের কথা মনে পড়ে নিজের পরিচয় ও ঠিকানা জানিয়ে ফেসবুকে পোস্ট করেন তিনি। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৪ সালে ঢাকার মিরপুরের বড়বাগ এলাকা থেকে নিখোঁজ হন আছিয়া। পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘদিন বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। একপর্যায়ে পরিবারের ধারণা হয়, আছিয়া হয়তো আর বেঁচে নেই। মেয়েকে হারানোর শোক বুকে নিয়ে তিন বছর আগে মারা যান তার মা রাহেলা।
আছিয়ার ভাষ্য, নিখোঁজ হওয়ার পর একটি চক্র তাকে সদরঘাট থেকে প্রলোভন দেখিয়ে প্রথমে ভারতে এবং পরে পাকিস্তানে পাচার করে। সেখানে তাকে ৪০ হাজার রুপির বিনিময়ে বিক্রি করা হয়। পরবর্তীতে এক পাকিস্তানি নাগরিকের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। সংসার জীবনে তার ছয় মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে। দীর্ঘ ৩২ বছর পর পরিবারের সন্ধান পেয়ে গত ২০ জুলাই থেকে ৯৫ বছর বয়সী বাবা তমিজ উদ্দিনের সঙ্গে নিয়মিত ভিডিও কলে কথা বলছেন আছিয়া। মেয়েকে ভিডিও কলে দেখতে ও তার কণ্ঠ শুনতে পারলেও সরাসরি কাছে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষায় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ছেন বৃদ্ধ বাবা। অন্যদিকে আছিয়াও দ্রুত বাংলাদেশে ফিরে এসে বাবার সঙ্গে দেখা করতে চান। তবে দেশে ফেরার পথে তৈরি হয়েছে পাসপোর্ট, ভিসা ও নাগরিকত্বসংক্রান্ত জটিলতা।
বরগুনার জেলা প্রশাসক মিজ্ তাছলিমা আক্তার জানিয়েছেন, আছিয়ার জন্মনিবন্ধন বা বাংলাদেশের নাগরিকত্বের প্রমাণ পাওয়া গেলে পাকিস্তানে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনের মাধ্যমে ট্রাভেল পাসের উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। এসব নথি না থাকলে বাংলাদেশে থাকা স্বজনরা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করতে পারবেন।
এদিকে, ৯৫ বছর বয়সী তমিজ উদ্দিন মেয়েকে জীবিত অবস্থায় একবার হলেও কাছে পাওয়ার আকুতি জানিয়েছেন। দীর্ঘ ৩২ বছর পর ফিরে পাওয়া মেয়েকে দেশে আনতে সরকারের দ্রুত সহযোগিতা কামনা করেছেন তিনি। পরিবারের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে কাগজপত্র ও নাগরিকত্বসংক্রান্ত জটিলতা দ্রুত নিরসন হবে। আর সেই উদ্যোগের মাধ্যমে জীবনের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে থাকা বৃদ্ধ বাবা তমিজ উদ্দিন তার হারিয়ে যাওয়া মেয়েকে আবারও নিজের কাছে ফিরে পাবেন।
দৈনিক শেষকথা Seshkatha News