বরগুনা সদর উপজেলা প্রতিনিধি: বরগুনা সদর উপজেলার ৯ নম্বর এম বালিয়াতলী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ছোট তালতলী গ্রামের মেহের মৃধা বাড়ির পাশের কমিউনিটি ক্লিনিক ও মসজিদ সংলগ্ন খালের ওপর একটি স্থায়ী কালভার্ট নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দীর্ঘ কয়েক যুগ ধরে একাধিক সরকারের পরিবর্তন হলেও এখানে কোনো স্থায়ী অবকাঠামো গড়ে ওঠেনি বলে অভিযোগ তাদের। স্থানীয়দের ভাষ্য, খালটির দুই পাড়ে প্রায় ২০০-৩০০ পরিবারের বসবাস। প্রতিদিনের চলাচলের জন্য এলাকাবাসী নিজেদের উদ্যোগে একটি বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করে ব্যবহার করছেন। তবে বর্তমানে সাঁকোটি অত্যন্ত নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। যে কোনো সময় এটি ভেঙে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা। প্রতিদিন এই সাঁকো ব্যবহার করে স্কুলে যাতায়াত করে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, সাঁকো পার হতে তাদের ভয় লাগে। অনেক সময় পা পিছলে খালে পড়ে যায়, ভিজে যাওয়ায় সেদিন আর স্কুলে যেতে পারে না। এতে তাদের লেখাপড়ারও ক্ষতি হচ্ছে। এছাড়া খালের অপর পাশে থাকা কমিউনিটি ক্লিনিকে চিকিৎসাসেবা নিতে এবং স্থানীয় মসজিদে নামাজ আদায় করতে প্রতিদিন শত শত মানুষকে এই ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো ব্যবহার করতে হয়। বিশেষ করে নারী, শিশু ও বয়স্কদের চলাচলে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
এলাকাবাসীর দুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ৯ নম্বর এম বালিয়াতলী ইউনিয়নের আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ও সাংবাদিক নেতা মো. হাফিজুর রহমান খান, তিনি একটি কালভার্ট নির্মাণের জন্য আবেদন করেছেন এবং নিজ অর্থায়নে সহযোগিতা করার আশা ব্যক্ত করেন। স্থানীয় বাসিন্দা জাকির হোসেন বলেন, "এখানে একটি কালভার্ট খুবই প্রয়োজন। প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ এই পথ ব্যবহার করে। আমরা প্রশাসনের কাছে দ্রুত একটি স্থায়ী কালভার্ট নির্মাণের জোর দাবি জানাচ্ছি।"
এ বিষয়ে বরগুনার সূযোগ্য জেলা প্রশাসক মিজ তাছলিমা আক্তার বলেন, "স্থানীয়দের দাবিটি অবশ্যই যৌক্তিক। আমি সদর উপজেলার ইউএনওকে বিষয়টি দেখার জন্য বলব এবং পরবর্তী সময়ে সেখানে একটি কালভার্ট নির্মাণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হবে।"
স্থানীয়দের আশা, প্রশাসনের দ্রুত উদ্যোগে খালের ওপর একটি স্থায়ী কালভার্ট নির্মাণ হলে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থী, মুসল্লি, রোগীসহ কয়েকশ পরিবারের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত হবে।
দৈনিক শেষকথা Seshkatha News