ঢাকা আজকের তারিখঃ | বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬: দৈনিক শেষকথা পত্রিকার আজকের সংস্করণ তালতলীতে জমি বিরোধে বসতঘরে আগুন দেওয়ার অভিযোগ! পাথরঘাটায় যৌতুক না দেওয়ায় স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ! আমতলী উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয় পরিদর্শনে মহাপরিচালক বামনা সাহেব বাড়ি বাজারে বণিক সমিতির উদ্যোগে পরিচ্ছন্নতা অভিযান বরগুনার উন্নয়নে প্রেসক্লাবের ২৩ দফা: সমন্বিত উদ্যোগের আশ্বাস প্রশাসনের বরগুনার আমতলীতে জমি নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ২০! বরগুনায় জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত তালতলীতে দুর্ঘটনাকবলিত ট্রলারের ১৪ জেলের পরিবারে খাদ্য সহায়তা পাথরঘাটায় এসিড মামলার বাদীকে আদালত চত্বরে প্রকাশ্য প্রাণনাশের হুমকি, সাক্ষীদের ওপরও হামলা! পাথরঘাটায় ট্রান্সপোর্ট কার্যালয় ও স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার অফিসে ইয়াবা-গাঁজা,অস্ত্র! বেতাগী মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শর্ট সার্কিট আতঙ্ক: আহত কয়েকজন বরগুনায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে খাল পাড়ে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও বৃক্ষরোপণ বামনায় ১০ পিস ইয়াবাসহ একজন গ্রেপ্তার ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর দৈনিক শেষকথা পত্রিকা গণভোটের রায় উপেক্ষা করলে সরকারকে মূল্য দিতে হবে: বরগুনায় মামুনুল হক বরগুনায় সীরাত চর্চা-২০২৬-এর সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী বরগুনায় ইংলিশ অলিম্পিয়াড ২০২৬-এর পুরস্কার বিতরণী LGED বরগুনার উদ্যোগে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক র‍্যালি জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ডেঙ্গু প্রতিরোধে বরগুনায় স্কাউটদের সচেতনতামূলক সভা

বরগুনার আমতলীতে জমি নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে আহত ১১, ৩জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক!

  • প্রকাশের সময় : Jun 3, 2026 ইং
বরগুনার আমতলীতে জমি নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে আহত ১১, ৩জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক! ছবির ক্যাপশন: বরগুনার আমতলীতে জমি নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে আহত ১১, ৩জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক!
ad728
আমতলী প্রতিনিধি: বরগুনার আমতলীতে ৩৩ শতাংশ জমি নিয়ে বিরোধের জেরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে ১১ জন আহত হয়েছেন, যার মধ্যে তিনজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

বরগুনার আমতলী উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ রাওঘা গ্রামে গত বুধবার বেলা ১১টার দিকে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। দীর্ঘদিনের চলমান ৩৩ শতাংশ জমির মালিকানা নিয়ে জহিরুল মৃধা ও তার চাচা খলিল মৃধার মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত হয়। বিষয়টি নিরসনের লক্ষ্যে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ একটি শালিস বৈঠকের আয়োজন করলেও আলোচনার মাধ্যমে কোনো সমাধান পাওয়া সম্ভব হয়নি। বৈঠকটি নিষ্ফলা হওয়ার পরপরই দুই পক্ষের লোকজন বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন, যা মুহূর্তের মধ্যেই দেশীয় অস্ত্রের মহড়া ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়। এই আকস্মিক সহিংসতায় উভয় পক্ষের অন্তত ১১ জন ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়েছেন, যা স্থানীয় জনমনে ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।

ভুক্তভোগী জহিরুল মৃধার অভিযোগ অনুযায়ী, শালিস বৈঠক থেকে ফেরার পথে পূর্বপরিকল্পিতভাবে খলিল মৃধার লোকজন তাদের গতিরোধ করে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে অতর্কিতে হামলা চালায়। হামলায় জহিরুল মৃধা, মাহতাব গাজী, সোনিয়া বেগমসহ অন্তত ১১ জন আহত হন। জহিরুল মৃধা দাবি করেছেন যে, তাকে এবং তার সহযোগীদের পিটিয়ে ও কুপিয়ে জখম করা হয়েছে এবং সোনিয়া বেগমের মাথায় গুরুতর আঘাত করা হয়েছে। অন্যদিকে, খলিল মৃধা পাল্টা অভিযোগ করে দাবি করেছেন যে, বিরোধের জের ধরে সৃষ্ট মারধরের ঘটনায় তার পক্ষেরও পাঁচজন আহত হয়েছেন। ভুক্তভোগীদের শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. লুনা বিনতে হক জানান, জহিরুল মৃধা, মাহতাব গাজী ও সোনিয়া বেগমের আঘাত গুরুতর হওয়ায় তাদের জরুরিভিত্তিতে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছে।

ঘটনার প্রেক্ষিতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, কারণ জমি সংক্রান্ত বিরোধের বিষয়টি ৩১ মে থানায় লিখিতভাবে জানানোর পরও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে ভুক্তভোগীদের দাবি। আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু শাহাদাৎ মো. হাচনাইন পারভেজ জানিয়েছেন যে, ঘটনার বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে পরবর্তীতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, শালিস বৈঠকের মতো সংবেদনশীল প্রক্রিয়ায় প্রশাসনের সরাসরি তদারকি না থাকায় এবং পূর্বের অভিযোগের যথাযথ সুরাহা না হওয়ায় এই সংঘর্ষের মতো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটার সুযোগ তৈরি হয়েছে। উভয় পক্ষই এখন একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগের আঙুল তোলায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

এই ধরণের সহিংসতা কেবল স্থানীয় শান্তি-শৃঙ্খলাকেই বিঘ্নিত করছে না, বরং গ্রাম্য সমাজ ব্যবস্থায় বিচারিক প্রক্রিয়ার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থাহীনতা তৈরি করছে। জমি নিয়ে বিরোধের জেরে যে পরিমাণ রক্তপাত ও আহতের ঘটনা ঘটেছে, তা স্থানীয় প্রশাসনের নজরদারির অভাবকে স্পষ্টভাবে নির্দেশ করে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা না গেলে এলাকায় পুনরায় বড় ধরনের সংঘর্ষের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতি দূর করতে স্থানীয় প্রশাসনকে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে, অন্যথায় এ ধরণের সংঘাতের প্রভাব ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : দৈনিক শেষকথা Seshkatha News

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
বরগুনাজুড়ে গবাদিপশুর খুড়া ও লাম্পি রোগের প্রকোপ, ওষুধ সংকটে

বরগুনাজুড়ে গবাদিপশুর খুড়া ও লাম্পি রোগের প্রকোপ, ওষুধ সংকটে

ad300