আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি: বরগুনার আমতলীতে মাদক বিক্রিতে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিকাশ ব্যবসায়ী সোহাগ হাওলাদারকে কুপিয়ে গুরুতর আহত ও সাড়ে ছয় লাখ টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে তিনি বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন বলে তার পরিবার জানিয়েছে।
গত সোমবার (১৮ মার্চ) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার কুকুয়া গ্রামের সরদার বাড়ির সামনে এ ঘটনা ঘটে। আহত সোহাগ হাওলাদার ওই এলাকার বাসিন্দা।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কুকুয়া গ্রামের মোশাররফ মৃধার দুই ছেলে অমিত মৃধা ও শিমুল মৃধা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক বিক্রি, চাঁদাবাজি ও ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। গত ১৮ মার্চ তাদের মাদক বিক্রিতে বাধা দেন সোহাগ হাওলাদার। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে রাতে তারা ওত পেতে থেকে সোহাগ হাওলাদারের মুখমণ্ডল ও চোখ বেঁধে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। পরে তাকে মৃত ভেবে রাস্তার পাশে ফেলে রেখে যায় এবং তার সঙ্গে থাকা প্রায় সাড়ে ছয় লাখ টাকা ও একটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়।
পরে স্থানীয়রা তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।
এ ঘটনায় সোহাগ হাওলাদারের স্ত্রী তানজিলা আক্তার বাদী হয়ে আমতলী থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তরা পলাতক রয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে হামলার প্রতিবাদ ও জড়িতদের গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে শুক্রবার বেলা ১১টায় কুকুয়া-গাজীপুর সড়কের মৃধাবাড়ী স্ট্যান্ড এলাকায় এলাকাবাসী মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে। এতে প্রায় তিন শতাধিক নারী-পুরুষ অংশগ্রহণ করেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি ও ছিনতাইয়ের মতো অপরাধে জড়িত। তাদের বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করলে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হয়রানির শিকার হতে হয়। সোহাগ হাওলাদারের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তারা।
আহতের স্ত্রী তানজিলা আক্তার বলেন, “মাদক বিক্রিতে বাধা দেওয়ায় পরিকল্পিতভাবে আমার স্বামীকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। তার সঙ্গে থাকা টাকা ও মোবাইল ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। তিনি এখনো মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।”
আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. রাশেদ মাহমুদ রোকনুজ্জামান জানান, আহত সোহাগ হাওলাদারকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, এ ঘটনায় মামলা দায়ের হয়েছে এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
দৈনিক শেষকথা Seshkatha News