আমতলী প্রতিনিধি (মো. মনির): বরগুনার আমতলী উপজেলার উত্তর-পূর্ব টেপুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খাঁনকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে!
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক সহকারী হিসেবে সচিব পদমর্যাদায় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পান মো. রাশেদ খাঁন। গত ১৯ জুলাই জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বৈদেশিক নিয়োগ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে বিষয়টি জানানো হয়। দায়িত্ব পাওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বিভিন্ন পোস্ট করা হয়। পাশাপাশি কয়েকটি পোস্টে বিরূপ মন্তব্যও দেখা যায়। অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২১ জুলাই উপজেলার এক জামায়াত নেতার ফেসবুক আইডি থেকে যমুনা টেলিভিশনের একটি ফটোকার্ড শেয়ার করে পোস্ট দেওয়া হয়। ওই পোস্টের মন্তব্যের ঘরে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. রেজাউল করিম লিখেন, "এত বড় চামচাকে যদি এত বড় রাজনৈতিক দলের রাজনৈতিক সহকারী না করা হয় তাহলে কি চলে?" এই মন্তব্যের স্ক্রিনশট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনার জন্ম দেয়। সরকারি কর্মচারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারবিষয়ক ২০১৯ সালের নির্দেশিকায় সরকার, সরকারি প্রতিষ্ঠান বা সরকারি সিদ্ধান্ত সম্পর্কে কটূক্তিমূলক, মানহানিকর বা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা রয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি কর্মচারীর নিরপেক্ষতা, শৃঙ্খলা ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়—এমন মন্তব্য না করারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া ২০২৬ সালে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকার বা সরকারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আপত্তিকর, কটূক্তিমূলক বা অপপ্রচারমূলক পোস্ট ও মন্তব্য থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেয়। নির্দেশনা অমান্য করলে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. রেজাউল করিম বলেন, "আমি ভুল করেছি। মন্তব্যটি ডিলিট করেছি। এটা করা ঠিক হয়নি।"
উপজেলা গণঅধিকার পরিষদের সাবেক আহ্বায়ক মো. সাইদুর রহমান বলেন, "একজন শিক্ষক হিসেবে এ ধরনের আপত্তিকর ও অসম্মানজনক মন্তব্য অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। শিক্ষকদের আচরণ শিক্ষার্থীদের জন্য আদর্শ হওয়া উচিত।"
এ বিষয়ে আমতলী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শফিকুল আলম বলেন, "বিষয়টি জেনেছি। তদন্ত সাপেক্ষে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই সরকারি কর্মচারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন -
দৈনিক শেষকথা Seshkatha News