বামনা প্রতিনিধি: বরগুনার বামনা উপজেলার বুকাবুনিয়া ইউনিয়নের চালিতাবুনিয়া গ্রামে গভীর রাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে তিনটি বসতঘর সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। আগুনের বিস্তার ঠেকাতে আরও একটি বসতঘরের অংশ ভেঙে সরিয়ে ফেলতে হওয়ায় মোট চারটি ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর দাবি, এ ঘটনায় ৩৫ লাখ টাকার বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। গত শুক্রবার দিবাগত রাত শেষে শনিবার ভোররাত ১টার দিকে চালিতাবুনিয়া গ্রামের জিন্নাত হাওলাদারের বাড়িতে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জিন্নাত হাওলাদারের বাড়িতে মোট নয়টি বসতঘর রয়েছে। গভীর রাতে হঠাৎ আলতাফ হাওলাদারের ঘরে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন পাশের ঘরগুলোতে ছড়িয়ে পড়লে পরিবারের সদস্যরা প্রাণ বাঁচাতে ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন। আগুনের তীব্রতায় একে একে তিনটি বসতঘর সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়। অগ্নিকাণ্ডে আলতাফ হাওলাদার, সোহাগ হাওলাদার ও রনি হাওলাদারের বসতঘর সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। আগুন মন্টু হাওলাদারের ঘরেও ছড়িয়ে পড়লে বড় ধরনের ক্ষতি এড়াতে স্থানীয়রা ঘরটির একটি অংশ ভেঙে সরিয়ে ফেলেন। এতে তার ঘরটি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বাড়ির বাসিন্দা জয় হাওলাদার জানান, রাত ১টার দিকে আলতাফ হাওলাদারের ঘর থেকে আগুনের শিখা ও চিৎকার শুনে তিনি ঘটনাস্থলে ছুটে যান। পরে পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝে দ্রুত ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন। খবর পেয়ে বামনা ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহযোগিতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। ফায়ার সার্ভিসের দ্রুত তৎপরতায় একই বাড়ির আরও ছয়টি বসতঘর আগুনের হাত থেকে রক্ষা পায়।ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে আলতাফ হাওলাদার কৃষিকাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। রনি হাওলাদার ঢাকায় কর্মরত থাকায় তার ঘরে তার বোন বসবাস করতেন। মন্টু হাওলাদার আনসার বাহিনীর সদস্য হওয়ার পাশাপাশি দিনমজুরের কাজ করেন। তবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সোহাগ হাওলাদারের পরিবার। পরিবারের সদস্যরা জানান, সোহাগের বাবা নেই এবং কৃষিকাজই তাদের আয়ের প্রধান উৎস। ঘটনার সময় ঘরটি তালাবদ্ধ থাকায় ভেতরে থাকা আসবাবপত্র, নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকার, ধান-চাল, পোশাকসহ কোনো মালামালই উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। তাদের দাবি, চারটি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে আর্থিকভাবে সবচেয়ে বড় ক্ষতির মুখে পড়েছে সোহাগের পরিবার। বামনা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ওয়্যারহাউস ইন্সপেক্টর মো. বাহাউদ্দিন বলেন, “প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। খবর পাওয়ার পর দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়ায় আগুন আরও ছড়িয়ে পড়তে পারেনি।” ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর দাবি, অগ্নিকাণ্ডে বসতঘরের পাশাপাশি আসবাবপত্র, নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার, খাদ্যশস্য ও প্রয়োজনীয় গৃহস্থালি সামগ্রী পুড়ে গেছে। সব মিলিয়ে তাদের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ৩৫ লাখ টাকারও বেশি।
ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নির্ধারণে তদন্ত চলছে।
দৈনিক শেষকথা Seshkatha News