বরগুনা প্রতিনিধি: বরগুনার তালতলী উপজেলায় প্রতারণার মাধ্যমে বাবার প্রায় ২ একর জমি নিজের নামে লিখে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ছেলে আ. নাজমুল ইসলাম (রহিম) হাওলাদারের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আব্দুল খালেক হাওলাদার (৯০) আমতলী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেছেন এবং সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন।
মামলার অভিযোগ ও সংবাদ সম্মেলন সূত্রে জানা যায়, গত ২১ জানুয়ারি অভিযুক্ত ছেলে রহিম তার বাবাকে তালতলী বন্দরের একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে নিয়ে যান। সেখানে ব্যবসার জন্য ব্যাংক ঋণ নেওয়ার কথা বলে বাবার কাছ থেকে জামিনদার হিসেবে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। পরে তাকে আমতলী সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে নিয়ে গিয়ে বিভিন্ন দলিলে স্বাক্ষর করানো হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, এসব দলিল হেবা ঘোষণাপত্র (দানপত্র) হিসেবে ব্যবহার করে আব্দুল খালেক হাওলাদারের মালিকানাধীন প্রায় ২ একর জমি ছেলের নামে রেজিস্ট্রি করে নেওয়া হয়।
গত ১ ফেব্রুয়ারি ভুক্তভোগী নিজ জমিতে চাষাবাদের উদ্যোগ নিলে অভিযুক্ত ছেলে বাধা দেন এবং জমিটি নিজের নামে রেজিস্ট্রিকৃত বলে দাবি করেন। এ সময় দলিলপত্র যাচাইয়ের মাধ্যমে প্রতারণার বিষয়টি সামনে আসে বলে অভিযোগ করা হয়।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) বিকেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আব্দুল খালেক হাওলাদার বলেন, “ছেলের কথায় বিশ্বাস করে আমি দলিলে স্বাক্ষর করেছিলাম। পরে জানতে পারি, দানপত্রের মাধ্যমে আমার জমি তার নামে লিখে নেওয়া হয়েছে।” তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার দাবি করেন।
ভুক্তভোগীর অন্যান্য সন্তানরা অভিযোগ করে বলেন, তাদের অজান্তে বাবার সম্পত্তি কৌশলে নিজেদের নামে লিখে নেওয়া হয়েছে। এতে তারা সবাই বঞ্চিত হয়েছেন। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার এবং বাবার সম্পত্তি ফেরত দেওয়ার দাবি জানান।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত আ. নাজমুল ইসলাম (রহিম) হাওলাদার বলেন, তিনি জোরপূর্বক কোনো জমি নেননি। তার দাবি, বাবা স্বেচ্ছায় জমি লিখে দিয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত মামলার খরচ তিনিই বহন করেছেন। সেই বিবেচনায় বাবা তাকে জমি দিয়েছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন। তবে বাবা জমি ফেরত চাইলে তা ফিরিয়ে দিতে প্রস্তুত বলেও জানান তিনি।
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহল বলছে, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা জরুরি।
দৈনিক শেষকথা Seshkatha News