নিজস্ব প্রতিবেদক: বরগুনার আমতলী উপজেলায় গর্ভবতী গরু চুরি করে জবাই করার একটি নৃশংস ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। গত ৭ এপ্রিল দিবাগত রাতে উপজেলার আড়পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের চরকগাছিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী আবুল হোসেন জানান, প্রতিদিনের মতো ওই রাতে তিনি তাঁর গর্ভবতী গরুটি গোয়ালঘরে বেঁধে রেখে ঘুমাতে যান। গভীর রাতে গোয়ালঘরে গরুটি না দেখে তিনি চিৎকার শুরু করলে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসেন। পরে অনেক খোঁজাখুঁজির পরও গরুটির কোনো সন্ধান মেলেনি।
পরদিন সকালে চরকগাছিয়া গ্রামের মৃধার খালের পাড়ে গরুটির চামড়া, নাড়িভুঁড়ি এবং পেটের বাচ্চা বস্তাবন্দী অবস্থায় ভাসতে দেখা যায়। ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
আবুল হোসেন অভিযোগ করে বলেন, ঘটনার আগে নাসির মাল ও জহিরুল মাল নামে দুই ব্যক্তিকে তাঁর বাড়ির আশপাশে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করতে দেখা গেছে। ঘটনার পর থেকেই তারা আত্মগোপনে রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় গরু চুরি করে জবাই করে মাংস বিক্রি করে আসছে। গত এক মাসে একই গ্রামের কুদ্দুস মৃধা, মজিবর পহলান ও ফারুক খানের গর্ভবতী গরুও একই কায়দায় চুরি হয়েছে বলে জানা গেছে।
আড়পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য কামরুল ইসলাম খবির বলেন, “এটি একটি সংঘবদ্ধ ও প্রভাবশালী চক্রের কাজ। সাধারণ মানুষ ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পায় না। দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা প্রয়োজন।”
চুরি হওয়া গরুটির আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় এক লাখ টাকা বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় আবুল হোসেন আমতলী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।
এদিকে ধারাবাহিক গরু চুরির ঘটনায় পুরো এলাকায় চোর আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়রা রাতের নিরাপত্তা জোরদারসহ দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।
দৈনিক শেষকথা Seshkatha News