বরগুনা প্রতিনিধি: বরগুনা সদর ও আমতলী থানা এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে ১০০ গ্রাম গাঁজা ও ১০ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা।
বরগুনা জেলা গোয়েন্দা শাখা গত ৬ জুন ২০২৬ তারিখে পরিচালিত দুটি পৃথক অভিযানে দুইজন মাদক কারবারিকে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্যসহ গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে। পুলিশ সুপার মোঃ কুদরত-ই-খুদা, পিপিএম-সেবা-এর নির্দেশনায় ও জেলা গোয়েন্দা শাখার অফিসার ইনচার্জের তত্ত্বাবধানে এই সফল অভিযানগুলো পরিচালিত হয়। প্রথম অভিযানটি সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে বরগুনা সদর থানাধীন ৬নং বুড়িরচর ইউনিয়নের পশ্চিম বুড়িরচর এলাকায় সম্পন্ন হয়, যেখানে এসআই বিকাশ কর্মকার সঙ্গীয় ফোর্সসহ মোখলেছ গাজীর বাড়ির রান্নাঘর সংলগ্ন পুকুর পাড় থেকে ১০০ গ্রাম গাঁজাসহ নিজাম ভান্ডারী নামে এক ব্যক্তিকে হাতেনাতে গ্রেফতার করেন। ঠিক একইভাবে একই দিন রাত ১০টা ৫৫ মিনিটে আমতলী পৌর এলাকার ৯নং ওয়ার্ডে এসআই মোঃ আব্দুল হাইয়ের নেতৃত্বে অপর একটি দল অভিযান চালিয়ে নয়াভাঙ্গুলী এলাকার ছনিয়ার পরিত্যক্ত টিনশেড ঘর থেকে ১০ পিস ইয়াবাসহ আরিফ হোসেন নামে আরেক যুবককে আটক করে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এই তৎপরতা স্থানীয় মাদক সিন্ডিকেটের নেটওয়ার্ক ভাঙার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
গ্রেফতারকৃত আসামিদের কার্যপদ্ধতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, তারা অত্যন্ত কৌশলে লোকালয়ের ভেতরে পরিত্যক্ত স্থান ও বসতবাড়ির আশপাশের ঝোপঝাড়কে মাদক কেনাবেচার নিরাপদ আস্তানা হিসেবে ব্যবহার করে আসছিল। স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিন ধরেই এই মাদক কারবারিরা এলাকার যুবসমাজকে বিপথগামী করার পাশাপাশি অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু গড়ে তুলেছিল। নিজাম ভান্ডারী ও আরিফ হোসেনের মতো খুচরা বিক্রেতারা মূলত বৃহত্তর মাদক নেটওয়ার্কের অংশ হিসেবে কাজ করে, যারা প্রশাসনের নজর এড়াতে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা এবং পরিত্যক্ত স্থাপনাকে বেছে নেয়। ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের অভিযোগ ছিল যে, এসব স্থানে সন্ধ্যার পর বহিরাগতদের আনাগোনা বেড়ে যায়, যা জননিরাপত্তাকে চরম হুমকির মুখে ফেলেছিল। পুলিশের এই অভিযানে মাদক ব্যবসায়ীদের গোপন আস্তানাগুলো উন্মোচিত হওয়ায় স্থানীয় জনমনে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এলেও, মাদকের এই বিস্তার রোধে আরও কঠোর নজরদারির প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
অভিযানের পর সংশ্লিষ্ট থানাগুলোতে আসামিদের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা রুজু করা হয়েছে এবং বর্তমানে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। জেলা গোয়েন্দা শাখার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণে তারা বদ্ধপরিকর এবং বরগুনার প্রতিটি প্রান্তে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগ বলছে, মাদক কারবারিদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না এবং চলমান এই অভিযানের ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে। তবে স্থানীয়দের দাবি, শুধুমাত্র গ্রেফতার করলেই সমস্যার সমাধান হবে না, বরং মাদক কেনাবেচার মূল হোতা ও সরবরাহকারীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। পুলিশের নিয়মিত টহল ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এলাকাগুলোকে মাদকমুক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও।
বরগুনায় মাদকের বিস্তার রোধে জেলা গোয়েন্দা শাখার এই সাফল্য পরিবহন ও স্থানীয় জনজীবনের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে। মাদক কারবারিদের দৌরাত্ম্য কমলে সাধারণ মানুষের চলাচলে যেমন স্বস্তি ফিরবে, তেমনি অপরাধ প্রবণতাও অনেকাংশে হ্রাস পাবে। তবে মাদক কারবারিদের এই নতুন নতুন কৌশলের মোকাবিলায় গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে আরও বেশি সক্রিয় হতে হবে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর এই কঠোর অবস্থান মাদক ব্যবসায়ীদের জন্য একটি স্পষ্ট বার্তা, যা ভবিষ্যতে বরগুনা জেলাকে মাদকমুক্ত করার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
দৈনিক শেষকথা Seshkatha News