আমতলী প্রতিনিধি: বরগুনার আমতলীতে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী জাবেদ ইমন (১৫) হত্যার বিচার ও হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের দাবিতে ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন এলাকাবাসী, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। রোববার (১৬ আগস্ট) সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত আমতলী পৌর শহরের চৌরাস্তায় এ কর্মসূচি পালন করা হয়। অবরোধের কারণে মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এ সময় বিক্ষোভকারীরা ইমন হত্যার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও রহস্য উদঘাটনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দ্রুত ও কার্যকর তদন্ত দাবি করেন তারা। বিক্ষোভ থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেওয়া হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন আন্দোলনকারীরা। নিহত জাবেদ ইমন আমতলী উপজেলার আরপাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের পূর্ব আরপাঙ্গাশিয়া গ্রামের আউয়াল প্যাদার ছেলে। সে আমতলী সরকারি এ কে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ছিল। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ জুলাই আরপাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের পশুরবুনিয়া স্লুইজ গেট এলাকা থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় ইমনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের সময় মরদেহটির পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পরে আমতলী থানা পুলিশের প্রচেষ্টায় নিহতের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়।
ইমনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর পরিবার, স্বজন, সহপাঠী ও শিক্ষকদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। মাত্র ১৫ বছর বয়সী এক স্কুলছাত্রের বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যেও উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দেয়। ইমন কীভাবে ও কেন হত্যার শিকার হলো এবং কারা এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত—এখন এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন পরিবার, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী। তাদের দাবি, দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে হবে।
আন্দোলনকারীরা বলেন, একজন স্কুলছাত্রের এমন নির্মম হত্যাকাণ্ড কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। দ্রুত আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা না হলে তারা বৃহত্তর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবেন।
দৈনিক শেষকথা Seshkatha News