বরগুনা জেলা প্রতিনিধি: বরগুনায় চলমান দক্ষিণাঞ্চলের আয়রন ব্রিজ পুনর্নির্মাণ ও পুনর্বাসন প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন সেতুর নির্মাণকাজ সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন পরিকল্পনা কমিশনের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) কর্মকর্তারা। গত শুক্রবার জেলার বিভিন্ন এলাকায় নির্মাণাধীন সেতুগুলো পরিদর্শন করেন তারা। এ সময় প্রকল্পের বাস্তবায়ন অগ্রগতি, নির্মাণকাজের গুণগত মান, নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ এবং সেতু নির্মাণের ফলে স্থানীয় জনগণের যোগাযোগব্যবস্থায় কী ধরনের সুবিধা তৈরি হবে—এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন পরিদর্শনকারী দল। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ২২ জুন আমতলীতে একটি সেতু ভেঙে বরযাত্রীবাহী একটি মাইক্রোবাস দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। ওই ঘটনায় নয়জন নিহত হন। মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনার পর দক্ষিণাঞ্চলের ঝুঁকিপূর্ণ ও জরাজীর্ণ সেতুগুলো চিহ্নিত করে পুনর্নির্মাণ ও পুনর্বাসনের উদ্যোগে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় এলজিইডির উদ্যোগে বরগুনার বিভিন্ন এলাকায় নতুন সেতু নির্মাণের কাজ চলছে।
পরিদর্শনকালে কর্মকর্তারা নির্মাণাধীন সেতুগুলোর বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন এবং প্রকল্পের নির্ধারিত নকশা ও কারিগরি specifications অনুযায়ী কাজ হচ্ছে কি না, তা পর্যবেক্ষণ করেন। পাশাপাশি নির্মাণকাজের অগ্রগতি ও মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে তথ্য নেন। পরিদর্শনে উপস্থিত ছিলেন প্রকল্প পরিচালক শরীফ মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন, বরগুনা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মেহেদী হাসান খান, সহকারী পরিচালক মো. কামাল হোসেন, সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী শ্যামল কুমার গাইন, উপজেলা প্রকৌশলী মো. ইদ্রিস আলীসহ প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। উপস্থিত ছিলেন যুবদল নেতা জাবেদুল ইসলাম জুয়েল। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিনের পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ সেতুগুলোর পরিবর্তে নতুন সেতু নির্মাণ হলে স্থানীয় জনগণের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি কৃষিপণ্য পরিবহন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সামগ্রিক যোগাযোগব্যবস্থায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। একই সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ সেতুজনিত দুর্ঘটনার আশঙ্কাও কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
দৈনিক শেষকথা Seshkatha News