বরগুনা প্রতিনিধি|মোঃ সাইফুর রহমান সজীব: বরগুনা জেলার সরকারি হাসপাতালে ঔষধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের অবাধ যাতায়াত ও প্রভাব বিস্তার নিয়ে জনমনে উদ্বেগ বাড়ছে। অভিযোগ রয়েছে, হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে তাদের দীর্ঘ সময় অবস্থান, চিকিৎসকদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ এবং বিভিন্ন প্রচারণামূলক কার্যক্রমের কারণে রোগীসেবার স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে।
রোগী ও তাদের স্বজনদের অভিযোগ, সরকারি হাসপাতালে প্রয়োজনীয় ওষুধের পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী বাইরে থেকে কোম্পানির ওষুধ কিনতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। এতে চিকিৎসা ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষ।
সচেতন নাগরিকদের দাবি, কিছু ক্ষেত্রে রোগীর প্রয়োজন ও চিকিৎসার মানের চেয়ে ঔষধ কোম্পানিগুলোর বিপণন কার্যক্রম বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। চিকিৎসকদের বিভিন্ন উপহার বা সুযোগ-সুবিধা দিয়ে প্রভাবিত করার অভিযোগও দীর্ঘদিনের।
স্থানীয়দের মতে, সরকারি হাসপাতালে ঔষধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের অতিরিক্ত প্রভাব সরকারি ওষুধের সুষ্ঠু ব্যবহার ও সরবরাহ ব্যবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। এর ফলে রোগীরা বিনামূল্যে প্রাপ্য ওষুধ থেকে বঞ্চিত হয়ে বাজার থেকে অতিরিক্ত দামে ওষুধ কিনতে বাধ্য হন।
স্বাস্থ্যখাত সংশ্লিষ্টদের মতে, হাসপাতাল প্রাঙ্গণে ঔষধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের প্রবেশ ও কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে বিদ্যমান নীতিমালার কঠোর বাস্তবায়ন জরুরি। একই সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় ওষুধ প্রেসক্রিপশন রোধ, সরকারি ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিতকরণ এবং রোগীকেন্দ্রিক স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠায় কার্যকর নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, “সরকারি হাসপাতাল রোগীদের চিকিৎসাসেবার স্থান, কোনো কোম্পানির ব্যবসায়িক স্বার্থ বাস্তবায়নের ক্ষেত্র নয়।” তারা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. রেজওয়ানুর আলম বলেন, “ঔষধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের হাসপাতালে প্রবেশের কোনো অনুমতি বা আইনগত এখতিয়ার নেই। কেউ নিয়ম ভঙ্গ করে হাসপাতালে প্রবেশ করলে তার বিরুদ্ধে ২ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। পাশাপাশি যেসব চিকিৎসক এসব প্রতিনিধিকে প্রশ্রয় দেবেন বা নিয়ম লঙ্ঘনে সহযোগিতা করবেন, তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ বিষয়ে সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ আবু ফাত্তাহ বলেন, “হাসপাতালে রোগী দেখার সময় কোনো ঔষধ কোম্পানির প্রতিনিধির ভিজিট বা উপস্থিতি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”
দৈনিক শেষকথা Seshkatha News