আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি : বরগুনার আমতলীতে এসএসসি পরীক্ষাকে সামনে রেখে নির্বাচনী পরীক্ষায় ফেল করা ৩১ জন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নিয়ে অন্য একটি বিদ্যালয়ের নামে ফরম পূরণ ও নিবন্ধন করার অভিযোগ উঠেছে আমতলী সরকারি আরমান খোরশেদ হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. বজলুর রহমানের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে ওই বিদ্যালয়ের দুই শতাধিক শিক্ষার্থী গত বছরের অক্টোবর মাসে নির্বাচনী পরীক্ষায় অংশ নেয়। এতে ৩১ জন শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়। পরে তাদের ফরম পূরণ করা যাবে না বলে কমিটির সিদ্ধান্ত থাকলেও প্রধান শিক্ষক তাদের ফরম পূরণের আশ্বাস দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অভিযোগ, ফরম পূরণের নামে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ৮ হাজার থেকে ৯ হাজার টাকা নেওয়া হয়। পরে রোববার প্রবেশপত্র নিতে গেলে তারা দেখতে পান, নিজ বিদ্যালয়ের পরিবর্তে পাতাকাটা নুরুল হক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নামে তাদের ফরম পূরণ করা হয়েছে।
একই সঙ্গে প্রবেশপত্র দেওয়ার সময় প্রত্যেকের কাছ থেকে আরও এক হাজার টাকা করে নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ সময় প্রতিবাদ করলে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে লাঞ্ছিত করে বিদ্যালয় থেকে বের করে দেওয়া হয় বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।
এসএসসি পরীক্ষার্থী জিদান ও মোসা. লিজা বলেন, ফরম পূরণের কথা বলে তাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হয়েছে। পরে অন্য বিদ্যালয়ের নামে ফরম পূরণ করা হয়েছে জানতে পেরে প্রতিবাদ করলে তাদের অপমান করা হয়। তারা ঘটনার তদন্ত ও দোষীদের শাস্তি দাবি করেন।
এ বিষয়ে পাতাকাটা নুরুল হক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মাওলানা আব্দুল গাফফার বলেন, ৩১ জন শিক্ষার্থীর ফরম পূরণের বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। শুধু স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে আমতলী সরকারি আরমান খোরশেদ হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. বজলুর রহমান ফরম পূরণে টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ বিবেচনায় অন্য বিদ্যালয় থেকে ফরম পূরণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে প্রবেশপত্র বিতরণে টাকা নেওয়ার অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন।
আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ জাফর আরিফ চৌধুরী বলেন, অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দৈনিক শেষকথা Seshkatha News