বরগুনা সদর উপজেলা প্রতিনিধি: বরগুনা সদর উপজেলার গৌরীচন্না ইউনিয়নে স্থানীয় পর্যায়ে বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে গ্রাম আদালতের সেবা ও গুরুত্ব সম্পর্কে জনসচেতনতামূলক বার্ষিক ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গত ৪ জুন ২০২৬ তারিখে বরগুনা সদর উপজেলার গৌরীচন্না ইউনিয়নে গ্রাম আদালতের সেবা সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং তৃণমূল পর্যায়ে বিরোধ নিষ্পত্তিতে এই আদালতের কার্যকারিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একটি বার্ষিক জনসচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন আয়োজিত হয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে ছোটখাটো বিরোধ বা বিবাদ নিরসনে গ্রাম আদালত যে কতটা সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে, তা প্রচার করাই ছিল এই ক্যাম্পেইনের মূল উদ্দেশ্য। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরগুনা সদর উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ শাহ আজিজ। তিনি ইউনিয়ন পর্যায়ের সাধারণ মানুষের মাঝে গ্রাম আদালতের আইনগত কাঠামো এবং এর মাধ্যমে দ্রুত বিচার পাওয়ার প্রক্রিয়াটি স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন। গ্রামীণ জনপদে বিচারপ্রার্থী মানুষের আইনি জটিলতা কমাতে এবং স্থানীয় পর্যায়ে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে গ্রাম আদালত যে একটি শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে কাজ করে, তা-ই ছিল এই আয়োজনের প্রধান প্রতিপাদ্য বিষয়।
ক্যাম্পেইনে অংশগ্রহণকারী ভুক্তভোগী ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গ্রাম আদালতের কার্যকারিতা সম্পর্কে সঠিক তথ্যের অভাবে অনেক সময় সাধারণ মানুষ দীর্ঘমেয়াদী আইনি জটিলতায় জড়িয়ে পড়েন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ শাহ আজিজ এ প্রসঙ্গে বলেন যে, গ্রাম আদালত সাধারণ মানুষের জন্য ন্যায়বিচার পাওয়ার সবচেয়ে সহজ, দ্রুত ও স্বল্প ব্যয়বহুল মাধ্যম। তার মতে, স্থানীয় পর্যায়ে ছোটখাটো বিরোধগুলো যদি আদালতে না গিয়ে গ্রাম আদালতের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা যায়, তবে একদিকে যেমন সময় ও অর্থের সাশ্রয় হয়, অন্যদিকে সামাজিক সম্প্রীতিও অটুট থাকে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে আয়োজিত এই আলোচনায় উঠে আসে যে, বিচারপ্রার্থী সাধারণ মানুষ অনেক ক্ষেত্রে আইনি অজ্ঞতার কারণে নিজেদের অধিকার থেকে বঞ্চিত হন, যা নিরসনে গ্রাম আদালতের প্রচারণার কোনো বিকল্প নেই। ভুক্তভোগীদের মতে, এই ধরনের সচেতনতামূলক কার্যক্রম তাদের আইনি সহায়তা পাওয়ার পথকে আরও সুগম করবে।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ গ্রাম আদালতের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির ইতিবাচক দিকগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। বক্তারা জনগণকে উৎসাহিত করে বলেন, আইনি লড়াইয়ে না জড়িয়ে স্থানীয় পর্যায়ে পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি করাই বুদ্ধিমানের কাজ। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে যে, গ্রাম আদালতের সেবাকে আরও গতিশীল করতে এবং তৃণমূল পর্যায়ে এর কার্যক্রম বাড়াতে নিয়মিত তদারকি করা হবে। অনুষ্ঠান শেষে অংশগ্রহণকারীদের মাঝে গ্রাম আদালতের সেবা সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্যবহুল লিফলেট বিতরণ করা হয়, যাতে মানুষ আদালতের কার্যপদ্ধতি ও আবেদনের নিয়মকানুন সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারে। স্থানীয় প্রশাসন ও সচেতন মহল মনে করছেন, গ্রাম আদালতের কার্যকারিতা সম্পর্কে সঠিক প্রচার থাকলে আদালতের ওপর থেকে মামলার চাপ অনেকাংশেই কমে আসবে এবং প্রান্তিক মানুষ দ্রুত বিচার পাবে।
পরিশেষে বলা যায়, গৌরীচন্না ইউনিয়নের এই সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইনটি স্থানীয় বিচার ব্যবস্থায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। এ ধরনের উদ্যোগের ফলে গ্রামীণ জনপদে শান্তি ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় গ্রাম আদালতের গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি পাবে এবং সাধারণ মানুষ দীর্ঘসূত্রতা থেকে মুক্তি পাবে। দীর্ঘমেয়াদে এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে তা সামাজিক অস্থিরতা কমিয়ে একটি স্থিতিশীল ও শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। স্থানীয় পর্যায়ে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রশাসনের এই ধারাবাহিক প্রচেষ্টা ভবিষ্যতে অন্যান্য ইউনিয়নের জন্যও একটি মডেল হিসেবে কাজ করবে।
দৈনিক শেষকথা Seshkatha News