বরিশাল প্রতিনিধি: বরিশাল বিভাগের একাধিক প্রধান নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। চলতি মৌসুমে এই প্রথম একসঙ্গে এতগুলো নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করায় উপকূলীয় জেলাগুলোতে জনদুর্ভোগ বেড়েছে। নদীর পানি বৃদ্ধির কারণে বরগুনা ও ভোলাসহ বিভিন্ন এলাকায় ফেরিঘাট, সড়ক ও যাতায়াতে মারাত্মক বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) সর্বশেষ পানি পর্যবেক্ষণ বুলেটিন অনুযায়ী, বরিশালের কীর্তনখোলা নদীর পানি বিপৎসীমার ২১ সেন্টিমিটার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে। ভোলার খেয়াঘাট পয়েন্টে তেঁতুলিয়া নদীর পানি বিপৎসীমার ২৬ সেন্টিমিটার, দৌলতখানে মেঘনা নদীর পানি ৪৭ সেন্টিমিটার এবং তজুমদ্দিনে ১ দশমিক ২৭ মিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
এদিকে বরগুনায় বিষখালী নদীর পানি পাথরঘাটা পয়েন্টে বিপৎসীমার ৩০ সেন্টিমিটার এবং বরগুনা পয়েন্টে ২৭ সেন্টিমিটার ওপরে রয়েছে। এছাড়া আমতলীতে পায়রা নদীর পানি বিপৎসীমার ৩ সেন্টিমিটার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে। পিরোজপুরে বলেশ্বর নদীর পানিও বিপৎসীমার ২২ সেন্টিমিটার ওপরে রয়েছে। পাউবোর বরিশাল কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক তাজুল ইসলাম জানান, চলতি বর্ষা মৌসুমে এই প্রথম একযোগে এতগুলো নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে।
এদিকে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট সুস্পষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে উত্তাল রয়েছে সমুদ্র। কয়েক সপ্তাহ ধরে দেশের সমুদ্রবন্দরগুলোতে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত বহাল রয়েছে। এর প্রভাবে বরগুনার পায়রা, বিষখালী ও বলেশ্বর নদীর পানি স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে দুই থেকে তিন ফুট বৃদ্ধি পেয়েছে।
অন্যদিকে পানি বৃদ্ধির কারণে বরগুনার বড়ইতলা ও পুরাকাটা ফেরিঘাটের গ্যাংওয়ে পানিতে তলিয়ে গেছে। ডুবে যাওয়া সড়ক দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত যানবাহন বিকল হচ্ছে এবং হাজারো যাত্রীকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। জোয়ারের সময় নারী, শিশু ও বয়স্কদের চলাচল সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে।
স্থানীয়রা জানান, প্রতিবছর একই সমস্যার পুনরাবৃত্তি হলেও স্থায়ী সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তারা দ্রুত গ্যাংওয়ে ও সংযোগ সড়ক উঁচু করে স্থায়ীভাবে নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। আবার ভোলার ইলিশা ফেরি ও লঞ্চঘাটের সব পন্টুনও পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় যাত্রীদের চরম দুর্ভোগের মধ্যে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত উপকূলীয় এলাকায় সতর্কতা বজায় রাখার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
দৈনিক শেষকথা Seshkatha News