ঢাকা আজকের তারিখঃ | বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বরগুনা জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভা বরগুনায় CRIMP প্রকল্পের আওতায় ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত আমতলীতে তিন মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেপ্তার: বরগুনায় জাতীয় মৎস্য পক্ষ ২০২৬ উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা তালতলীতে বিদ্যালয় মেরামত ও শ্রেণীকক্ষ নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে! আমতলীতে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু: পরিবারের দাবি হত্যা! বেতাগীতে আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বরগুনায় পুলিশের অভিযানে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকারসহ চোরাইমাল উদ্ধার: গ্রেফতার ২ বরগুনায় টাকা দিতে না পারায় কোদালের আঘাতে রক্তাক্ত বাবা ও ভাইয়ের স্ত্রী: আহত ২ বরগুনায় মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলায় বাদীর ৩ মাসের কারাদণ্ড! আমতলীর আড়পাঙ্গাশিয়া খাল থেকে অজ্ঞাত যুবকের মরদেহ উদ্ধার: বরগুনার সাবেক এসিল্যান্ড শাওন মজুমদারকে প্রত্যাহার: স্পিকারের নামে জাল ডিও পত্র! পাথরঘাটায় ১১৩টি পুকুরে চার লক্ষাধিক মাছের পোনা অবমুক্ত: আধুনিক ভবন আছে, নেই পর্যাপ্ত শিক্ষক: সংকটে বরগুনার ২ সরকারি বিদ্যালয়ের পাঠদান বরগুনায় বৃষ্টিস্নাত উৎসবমুখর আয়োজনে পূবালী ব্যাংকের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পাঁচ দফা দাবিতে বরগুনাসহ সারাদেশে অনির্দিষ্টকালের অ্যাম্বুলেন্স ধর্মঘট! তালতলীতে কচুপাত্রা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অবৈধ পকেট কমিটি গঠনের অভিযোগ! বরগুনায় গাঁজা সেবনের সময় কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের ওয়ার্ড সভাপতি আটক! সৌন্দর্যের আড়ালে সংকট: নদীভাঙন, দূষণ ও জলবায়ু ঝুঁকিতে পাথরঘাটার প্রকৃতি বরগুনায় স্বেচ্ছাসেবকদের মাঝে জরুরি সুরক্ষা সরঞ্জাম বিতরণ

বামনা মহিলা দাখিল মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীদের স্বাক্ষর জালিয়াতি ও অর্থ আত্মসাত

  • প্রকাশের সময় : Mar 17, 2026 ইং
বামনা মহিলা দাখিল মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীদের স্বাক্ষর জালিয়াতি ও অর্থ আত্মসাত ছবির ক্যাপশন: বামনা মহিলা দাখিল মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীদের স্বাক্ষর জালিয়াতি ও অর্থ আত্মসাত
ad728
নিজস্ব প্রতিবেদক: বরগুনার বামনা উপজেলার বামনা মহিলা দাখিল মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীদের স্বাক্ষর জালিয়াতি করে সরকারি অনুদানের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানের সুপার ও পরিচালনা কমিটির সভাপতির বিরুদ্ধে একাধিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ সামনে এসেছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে,গত ২০২৩ সালে বিগত প্রধানমন্ত্রী শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের (পিবিজিএসআই) আওতায় মাদ্রাসাটির জন্য ৫ লাখ টাকা অনুদানের বরাদ্দ দেওয়া হয়। শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের সহায়তা, বইপত্র-লাইব্রেরি ও শিক্ষা উপকরণ, অবকাঠামো উন্নয়ন, বিশুদ্ধ পানি ও শৌচাগার সংস্কারের জন্য এই অর্থ দেওয়া হয়েছিল। অর্থ ব্যয়ের জন্য তিন সদস্যের একটি কমিটিও গঠন করা হয়।

কিন্তু তদন্তে দেখা গেছে, অনুদানপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের তালিকায় ১৫ জন শিক্ষার্থীর স্বাক্ষর দেখানো হলেও সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীরা দাবি করেছেন তারা কোনো টাকা পাননি এবং কোনো কাগজে স্বাক্ষরও করেননি!

তালিকাভুক্ত সাবেক শিক্ষার্থী ছনিয়া আক্তার, মোসা. তন্নী, তামান্না আক্তার, নার্গিস আক্তার ও মোসা. খাদিজা আক্তার জানান, তারা এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের অর্থ সহায়তা পাননি। তাদের নামে স্বাক্ষর কীভাবে করানো হয়েছে সে বিষয়েও তারা কিছু জানেন না!

তথ্য সূত্র অনুযায়ী, অসহায় শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দকৃত ৭৫ হাজার টাকা এবং প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ ছিল ৫০ হাজার টাকা—মোট ১ লাখ ২৫ হাজার টাকার হিসাব নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে!

এছাড়া মাদ্রাসার দুটি টিনের ঘর, মাটি, বালু ও ইট নিজ ক্ষমতায় নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৪ লাখ টাকা বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে,

এ বিষয়ে মাদ্রাসার সুপার মো. আলমগীর হোসেন বলেন, অনুদানের অর্থ ব্যয়ের জন্য তিন সদস্যের একটি সাব-কমিটি করা হয়েছিল। তারা বিষয়টি ভালো বলতে পারবেন। তিনি জানান, তিনি টাকা উত্তোলন করে তহবিলে জমা দিয়েছেন এবং প্রধান হিসেবে স্বাক্ষর করেছেন। তবে টাকা বিতরণের সময় তিনি উপস্থিত ছিলেন না।

এদিকে সাব-কমিটির সদস্য মো. আজিজুর রহমান (গণিত), ফিরোজা বেগম (সামাজিক বিজ্ঞান) ও মো. সাইদুর রহমান (অফিস সহকারী) জানান, তারা জানতেন না যে তারা কোনো আয়-ব্যয় কমিটির সদস্য হয়েছেন। তাদের অভিযোগ, সুপার কোনো মতামত ছাড়াই কমিটি গঠন করেন। পরে সভাপতির মেজো ভাই ও স্থানীয় এক রাজনৈতিক নেতাসহ মাদ্রাসা সুপার তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন এবং চাকরি চলে যাওয়ার ভয় দেখান। একপর্যায়ে বাধ্য হয়ে তারা রেজুলেশনে স্বাক্ষর করেন!

মাদ্রাসার সুপার মো. আলমগীর হোসেন বলেন, “আমার হাত-পা বাঁধা ছিল। আমি কাঠের পুতুলের মতো ছিলাম। সভাপতি যা বলেছেন,তখন তাই করেছি!”

তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৩০ নভেম্বর সভাপতি ও সুপারের যৌথ স্বাক্ষরে মাদ্রাসার তহবিল থেকে ৫ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়। পরবর্তীতে ওই অর্থের একটি অংশ বিভিন্ন হিসাবের মাধ্যমে লেনদেন করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বিষয়টি তথ্যগত ভুল বোঝাবুঝি হতে পারে! বিভিন্ন পর্যায়ে তদন্ত চলছে এবং তিনি কোনো অর্থ আত্মসাৎ করেননি!

বরগুনা জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয়দের দাবি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমন অনিয়মের অভিযোগ সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত, যাতে শিক্ষাঙ্গনের সুনাম অক্ষুণ্ন থাকে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : দৈনিক শেষকথা Seshkatha News

কমেন্ট বক্স
তালতলীতে পুষ্টি সমৃদ্ধ দানাদার ফসল নিয়ে মাঠ দিবস

তালতলীতে পুষ্টি সমৃদ্ধ দানাদার ফসল নিয়ে মাঠ দিবস

ad300