তালতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি: বরগুনার তালতলী উপজেলার করইবাড়িয়া ইউনিয়নের হেলোঞ্চাবাড়িয়া গ্রামে নির্বাচনী খরচের জন্য নেওয়া ঋণের পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। গত সোমবার (৮ জুন) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত মাসুম সরদারকে প্রথমে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হলে অবস্থার অবনতি ঘটায় পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১১ বছর আগে একই গ্রামের ইউপি সদস্য রেদওয়ান সরদার নির্বাচনী খরচ মেটাতে মাসুম সরদারের কাছ থেকে ১ লাখ ৬ হাজার টাকা ধার নেন। দীর্ঘদিনেও সেই টাকা পরিশোধ না করায় বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সালিশে টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। ভুক্তভোগীর পরিবার জানায়, ইউপি সদস্য রেদওয়ান সরদার ৮ জুন পাওনা টাকা পরিশোধ করবেন বলে মাসুম সরদারকে তার বাড়িতে আসতে বলেন। সোমবার দুপুরে টাকা নিতে গেলে পূর্বপরিকল্পিতভাবে তার ওপর হামলা চালানো হয় বলে তারা দাবি করেন।
আহতের ছোট ভাই রেজাউল সরদার বলেন, “পাওনা টাকার বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে একাধিক মামলাও রয়েছে। পরে আপসের মাধ্যমে টাকা পরিশোধের আশ্বাস দেওয়া হলেও ভাইকে বাড়িতে ডেকে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে হামলা করা হয়েছে।” তিনি আরও জানান, স্থানীয়দের সহায়তায় রক্তাক্ত অবস্থায় মাসুম সরদারকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য রেদওয়ান সরদার হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “২০১৭ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সময় আমার অর্থ সংকট ছিল। তখন কর্মী-সমর্থকরা মাসুম সরদারের কাছ থেকে টাকা ধার নিয়ে নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনা করেন। পরে চেয়ারম্যানের মাধ্যমে ৩০ হাজার টাকা পরিশোধ করা হয়। কিন্তু তিনি পুরো টাকা এককালীন দাবি করায় জটিলতা তৈরি হয়। পরবর্তীতে আমার বাবার উপস্থিতিতে পাওনা টাকা পরিশোধ করা হয়েছে।”
এ বিষয়ে তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম বলেন, “এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
দৈনিক শেষকথা Seshkatha News