সাইফুল্লাহ নাসির, আমতলী প্রতিনিধি: বরগুনার আমতলীতে ফ্যামিলি কার্ড শুমারি-২০২৬ কার্যক্রমে সুপারভাইজার ও তথ্যসংগ্রহকারী নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মনজুরুল আহসানের অপসারণ দাবি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তি পোস্ট ও মন্তব্য করছেন। অভিযোগকারীদের দাবি, ফ্যামিলি কার্ডের অস্থায়ী নিয়োগে নিষিদ্ধ ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী, তাঁদের পরিবারের সদস্য এবং সংশ্লিষ্টদের কয়েকজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে নিয়োগের স্বচ্ছতা ও প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। স্থানীয়দের অভিযোগ, নিয়োগপ্রক্রিয়ায় উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মনজুরুল আহসান প্রভাব বিস্তার করেছেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তাঁর সরাসরি বক্তব্য পাওয়া যায়নি! অভিযোগ রয়েছে, মনজুরুল আহসান নিজেও অতীতে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন। ৫ আগস্টের পরও তিনি আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিভিন্নভাবে সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা করছেন—এমন অভিযোগও করেছেন স্থানীয় কয়েকজন। একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক সরকারি ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বে থাকার বিষয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি তালতলী উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তার পাশাপাশি আমতলী সদর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, আমতলী কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সাধারণ সম্পাদকসহ বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করছেন। এসব দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগও উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এ ছাড়াও ১৬ বছর আগে মারা যাওয়া এক ব্যক্তির নামে এখনও বিধবা ভাতা দেওয়া হচ্ছে—এমন অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পরও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগকারীরা জানান।
ফ্যামিলি কার্ডের নিয়োগপ্রক্রিয়া নিয়ে জানতে চাইলে আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ জাফর আরিফ চৌধুরী বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের অস্থায়ী নিয়োগের জন্য চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মনজুরুল আহসান ওই কমিটির সদস্য সচিব। নিষিদ্ধ ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মী বা তাঁদের স্বজনদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ইউএনও বলেন, এ ধরনের ঘটনা ঘটে থাকলে তা বিধি অনুযায়ী তদন্ত করা হবে এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, ফ্যামিলি কার্ডের মতো একটি সরকারি সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির জনবল নিয়োগে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা জরুরি। অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা বের করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
নিয়োগে অনিয়ম, রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে নিয়োগ, আর্থিক সুবিধা গ্রহণ কিংবা মৃত ব্যক্তির নামে ভাতা প্রদানের অভিযোগ— উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মনজুরুল আহসান (সাবেক ছাত্রলীগ নেতা)
দৈনিক শেষকথা Seshkatha News