
নিজস্ব প্রতিবেদক: বরগুনার বামনা উপজেলার বামনা মহিলা দাখিল মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীদের স্বাক্ষর জালিয়াতি করে সরকারি অনুদানের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানের সুপার ও পরিচালনা কমিটির সভাপতির বিরুদ্ধে একাধিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ সামনে এসেছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে,গত ২০২৩ সালে বিগত প্রধানমন্ত্রী শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের (পিবিজিএসআই) আওতায় মাদ্রাসাটির জন্য ৫ লাখ টাকা অনুদানের বরাদ্দ দেওয়া হয়। শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের সহায়তা, বইপত্র-লাইব্রেরি ও শিক্ষা উপকরণ, অবকাঠামো উন্নয়ন, বিশুদ্ধ পানি ও শৌচাগার সংস্কারের জন্য এই অর্থ দেওয়া হয়েছিল। অর্থ ব্যয়ের জন্য তিন সদস্যের একটি কমিটিও গঠন করা হয়।
কিন্তু তদন্তে দেখা গেছে, অনুদানপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের তালিকায় ১৫ জন শিক্ষার্থীর স্বাক্ষর দেখানো হলেও সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীরা দাবি করেছেন তারা কোনো টাকা পাননি এবং কোনো কাগজে স্বাক্ষরও করেননি!
তালিকাভুক্ত সাবেক শিক্ষার্থী ছনিয়া আক্তার, মোসা. তন্নী, তামান্না আক্তার, নার্গিস আক্তার ও মোসা. খাদিজা আক্তার জানান, তারা এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের অর্থ সহায়তা পাননি। তাদের নামে স্বাক্ষর কীভাবে করানো হয়েছে সে বিষয়েও তারা কিছু জানেন না!
তথ্য সূত্র অনুযায়ী, অসহায় শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দকৃত ৭৫ হাজার টাকা এবং প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ ছিল ৫০ হাজার টাকা—মোট ১ লাখ ২৫ হাজার টাকার হিসাব নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে!
এছাড়া মাদ্রাসার দুটি টিনের ঘর, মাটি, বালু ও ইট নিজ ক্ষমতায় নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৪ লাখ টাকা বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে,
এ বিষয়ে মাদ্রাসার সুপার মো. আলমগীর হোসেন বলেন, অনুদানের অর্থ ব্যয়ের জন্য তিন সদস্যের একটি সাব-কমিটি করা হয়েছিল। তারা বিষয়টি ভালো বলতে পারবেন। তিনি জানান, তিনি টাকা উত্তোলন করে তহবিলে জমা দিয়েছেন এবং প্রধান হিসেবে স্বাক্ষর করেছেন। তবে টাকা বিতরণের সময় তিনি উপস্থিত ছিলেন না।
এদিকে সাব-কমিটির সদস্য মো. আজিজুর রহমান (গণিত), ফিরোজা বেগম (সামাজিক বিজ্ঞান) ও মো. সাইদুর রহমান (অফিস সহকারী) জানান, তারা জানতেন না যে তারা কোনো আয়-ব্যয় কমিটির সদস্য হয়েছেন। তাদের অভিযোগ, সুপার কোনো মতামত ছাড়াই কমিটি গঠন করেন। পরে সভাপতির মেজো ভাই ও স্থানীয় এক রাজনৈতিক নেতাসহ মাদ্রাসা সুপার তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন এবং চাকরি চলে যাওয়ার ভয় দেখান। একপর্যায়ে বাধ্য হয়ে তারা রেজুলেশনে স্বাক্ষর করেন!
মাদ্রাসার সুপার মো. আলমগীর হোসেন বলেন, “আমার হাত-পা বাঁধা ছিল। আমি কাঠের পুতুলের মতো ছিলাম। সভাপতি যা বলেছেন,তখন তাই করেছি!”
তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৩০ নভেম্বর সভাপতি ও সুপারের যৌথ স্বাক্ষরে মাদ্রাসার তহবিল থেকে ৫ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়। পরবর্তীতে ওই অর্থের একটি অংশ বিভিন্ন হিসাবের মাধ্যমে লেনদেন করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বিষয়টি তথ্যগত ভুল বোঝাবুঝি হতে পারে! বিভিন্ন পর্যায়ে তদন্ত চলছে এবং তিনি কোনো অর্থ আত্মসাৎ করেননি!
বরগুনা জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের দাবি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমন অনিয়মের অভিযোগ সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত, যাতে শিক্ষাঙ্গনের সুনাম অক্ষুণ্ন থাকে।