তালতলী প্রতিনিধি: বরগুনার তালতলী উপজেলার শুভ সন্ধ্যা সমুদ্র সৈকতে বন্ধুদের সাথে গোসলে নেমে ঢেউয়ের তোড়ে তলিয়ে নিখোঁজ হয়েছেন মো. আসাদুল নামে এক দাখিল পরীক্ষার্থী, যাকে উদ্ধারে যৌথ অভিযান চালাচ্ছে প্রশাসন।
বরগুনার তালতলী উপজেলার পর্যটন কেন্দ্র শুভ সন্ধ্যা সমুদ্র সৈকতে গত মঙ্গলবার দুপুরে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। আমতলী উপজেলার মানিকঝুড়ি গ্রামের বাসিন্দা এবং স্থানীয় মানিকঝুড়ি মোহাম্মদপুর দাখিল মাদ্রাসার পরীক্ষার্থী মো. আসাদুল বন্ধুদের সঙ্গে আনন্দভ্রমণে গিয়ে সাগরের উত্তাল ঢেউয়ের তোড়ে তলিয়ে নিখোঁজ হয়েছেন। ঘটনার দিন দুপুরে আসাদুল তার চার বন্ধু জাকারিয়া, আতাউল্লাহ, শাওন ও সাগরের সঙ্গে সৈকতে নেমেছিলেন। সাগরের জোয়ারের সময় হঠাৎ আসা প্রবল ঢেউয়ের তোড়ে পাঁচ বন্ধু একসঙ্গে ভেসে যান। স্থানীয়দের দ্রুত তৎপরতায় চারজনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও আসাদুলকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। দুর্ঘটনার পর থেকেই সংশ্লিষ্ট এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং নিখোঁজ শিক্ষার্থীর পরিবারের সদস্যরা দিশেহারা অবস্থায় সৈকতের তীরে অবস্থান করছেন।
উদ্ধার হওয়া চার বন্ধুর বয়ানে ঘটনার ভয়াবহতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। তারা জানিয়েছেন, সৈকতে গোসলের এক পর্যায়ে বড় ধরনের ঢেউয়ের ধাক্কায় তারা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন এবং মুহূর্তের মধ্যে গভীর পানির দিকে তলিয়ে যেতে থাকেন। বন্ধু জাকারিয়া জানান, তারা একে অপরকে বাঁচানোর চেষ্টা করলেও সাগরের তীব্র স্রোত তাদের বিচ্ছিন্ন করে দেয়। স্থানীয় জেলেরা ও সৈকতে উপস্থিত দর্শনার্থীরা তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার কাজে ঝাঁপিয়ে না পড়লে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারত। উদ্ধার হওয়া চারজনকে তালতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং তারা বর্তমানে শারীরিকভাবে সুস্থ থাকলেও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত অবস্থায় রয়েছেন। এই ঘটনা পর্যটন কেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং পর্যটকদের অসচেতনতার বিষয়টি আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।
ঘটনার পরপরই তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও কোস্ট গার্ডের সমন্বয়ে একটি যৌথ উদ্ধারকারী দল দীর্ঘ চার ঘণ্টা অভিযান পরিচালনা করে। তবে প্রতিকূল আবহাওয়া ও সমুদ্রের জোয়ারের তীব্রতার কারণে আসাদুলের কোনো সন্ধান পাওয়া সম্ভব হয়নি। তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সাইদুল ইসলাম জানান, উদ্ধার অভিযান এখনো চলমান রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো নিবিড়ভাবে কাজ করছে। তবে স্থানীয়রা অভিযোগ করছেন যে, শুভ সন্ধ্যা সমুদ্র সৈকতের মতো ঝুঁকিপূর্ণ পর্যটন এলাকায় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা সতর্কবার্তা বা লাইফগার্ডের অভাব রয়েছে, যা প্রায়শই এ ধরনের দুর্ঘটনার মূল কারণ হয়ে দাঁড়ায়। কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও নিখোঁজ শিক্ষার্থীর পরিবারের সদস্যরা দ্রুত সময়ের মধ্যে কোনো সুসংবাদ পাওয়ার আশায় প্রহর গুনছেন।
শুভ সন্ধ্যা সৈকতে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনাটি পর্যটন খাতের জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে সমুদ্র সৈকতে পর্যটকদের গোসলের ক্ষেত্রে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ এবং জরুরি উদ্ধারকারী দল মোতায়েন না থাকলে ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রাণহানির ঝুঁকি আরও বাড়বে। একজন দাখিল পরীক্ষার্থীর এমন আকস্মিক নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় স্থানীয় জনমনে গভীর ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। প্রশাসনের উচিত অবিলম্বে সৈকত এলাকাগুলোতে নজরদারি বাড়ানো এবং পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য স্থায়ী লাইফগার্ড ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। নিখোঁজ আসাদুলের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে এলাকাবাসী দ্রুত তার সন্ধান পাওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
দৈনিক শেষকথা Seshkatha News