আমতলী প্রতিনিধি: বরগুনার আমতলীতে সুদের টাকার জের ধরে শাহজাহান হাওলাদার (৫০) নামে এক ব্যক্তিকে তুলে নিয়ে নির্মম নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি বর্তমানে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আহত শাহজাহান হাওলাদার উপজেলার চাওড়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের পাতাকাটা এলাকার মৃত আকরাম আলী হাওলাদারের ছেলে।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীর অভিযোগে জানা গেছে, কয়েক মাস আগে শাহজাহান হাওলাদার চাওড়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের পান্নু মেম্বারের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা ধার নেন। ওই টাকার বিপরীতে মাসিক ১০ শতাংশ হারে সুদ নির্ধারণ করা হয়। শাহজাহানের দাবি, তিনি ধারাবাহিকভাবে ১০ মাসে ১০ হাজার টাকা পরিশোধ করেন। পরে এককালীন আরও ৫ হাজার টাকা এবং বিভিন্ন সময়ে প্রায় ১৩ হাজার টাকা পরিশোধ করেছেন।
তবে এত টাকা পরিশোধের পরও তার কাছে পুনরায় টাকা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। দাবিকৃত টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে শনিবার সকালে কাজে যাওয়ার পথে তাকে প্রকাশ্যে অপমান ও হেনস্তা করা হয় বলে জানান ভুক্তভোগী।
পরে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে আমতলী উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মেহেদি জামান রাকিবের কাছে বিচার চাওয়াকে কেন্দ্র করে পান্নু মেম্বার ও তার সহযোগীরা ক্ষিপ্ত হয়ে শাহজাহান হাওলাদারকে তুলে নিয়ে বেধড়ক মারধর করে বলে অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী অভিযুক্তদের মধ্যে আফজাল, রাসেল মোল্লা, মামুন শরিফ ও নজরুলসহ আরও কয়েকজনের নাম উল্লেখ করেছেন।
নির্যাতনের ফলে শাহজাহানের শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র সাধারণ মানুষকে চড়া সুদের ফাঁদে ফেলে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। প্রতিবাদ করলেই হামলা, ভয়ভীতি ও নির্যাতনের শিকার হতে হচ্ছে।
এলাকাবাসী দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে সুদের কারবার ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সচেতন মহল।
এ বিষয়ে আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেন, অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
দৈনিক শেষকথা Seshkatha News