বরগুনায় জ্বালানি তেলের সংকট এবং পাম্প থেকে কন্টেইনার বা বোতলে তেল সরবরাহ বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছেন উপকূলীয় এলাকার নদ-নদীতে ছোট ট্রলারে মাছ শিকার করা জেলেরা। টানা প্রায় ১৫ দিন ধরে নদীতে যেতে না পারায় তাদের জীবিকা নির্বাহে দেখা দিয়েছে চরম অনিশ্চয়তা। এই অবস্থার প্রতিবাদে এবং জেলেদের জন্য দ্রুত জ্বালানি তেল সরবরাহ নিশ্চিতের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন ক্ষুব্ধ জেলেরা।
মঙ্গলবার সকালে বরগুনা সদর উপজেলার বদরখালী ইউনিয়নের বাওয়ালকর স্লুইজগেট এলাকায় সারিবদ্ধভাবে ডিজেলচালিত নৌকা রেখে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্থানীয় শতাধিক জেলে অংশ নেন।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া জেলেরা জানান, ঈদের আগ থেকেই তারা তেল পাচ্ছেন না। পাম্পে গেলেও কন্টেইনার বা বোতলে তেল দেওয়া হচ্ছে না। ফলে বাধ্য হয়ে মাছ শিকার বন্ধ রাখতে হয়েছে। এতে পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে তাদের।
বক্তারা বলেন, একদিকে দাদনের চাপ অন্যদিকে এনজিও ঋণের কিস্তি—সব মিলিয়ে তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। দ্রুত তেলের ব্যবস্থা না হলে পরিবার-পরিজন নিয়ে না খেয়ে থাকতে হবে বলেও জানান তারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাওয়ালকর এলাকায় বিষখালী নদীতে প্রায় ৮০টির বেশি স্যালো ইঞ্জিনচালিত ছোট জেলে নৌকা রয়েছে। এসব নৌকায় অন্তত ১৬০ জন জেলে মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করেন। কিন্তু তেলের অভাবে বর্তমানে সব নৌকা খালের মধ্যে নোঙর করে রাখা হয়েছে। ফলে গত দুই সপ্তাহ ধরে মাছ শিকার বন্ধ থাকায় ওই এলাকার জেলে পরিবারগুলো চরম দুর্ভোগে পড়েছে।
একই চিত্র জেলার ছয়টি উপজেলার পায়রা, বলেশ্বর ও বিষখালী নদী তীরবর্তী এলাকাতেও দেখা যাচ্ছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
জেলা মৎস্য বিভাগের তথ্যমতে, বরগুনায় মোট ৪৬ হাজার ৪২১ জন নিবন্ধিত জেলে রয়েছেন। এর মধ্যে ২৭ হাজার ২৫০ জন সমুদ্রগামী জেলে। এছাড়া নদ-নদীতে প্রায় ১০ হাজারের বেশি ছোট স্যালো ইঞ্জিনচালিত জেলে নৌকা রয়েছে।
বাওয়ালকর এলাকার জেলে মো. ইলিয়াস হোসেন বলেন, “আমরা পাম্পে গিয়ে তেল পাই না। গাড়িতে তেল দেওয়া হলেও আমাদের বোতলে দেওয়া হয় না। তেল না থাকায় বোট বন্ধ, নদীতে যেতে পারছি না। মাছ না ধরলে ঘরে খাবারও জোটে না।”
একই এলাকার মৎস্যজীবী সমিতির সভাপতি রুহুল আমিন বলেন, “আমাদের এলাকায় প্রায় ১৫০ জন জেলে রয়েছে। ডিজেলের অভাবে তারা নদীতে যেতে পারছে না। পরিবার নিয়ে অনেকেই না খেয়ে দিন কাটাচ্ছে। জেলে কার্ড দেখিয়ে তেল পাওয়ার ব্যবস্থা করা জরুরি।”
এ বিষয়ে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. জিয়া উদ্দিন বলেন, সমুদ্রগামী জেলেদের ট্রলারে তেল সরবরাহ নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তবে অভ্যন্তরীণ নদীতে চলাচলকারী ছোট ট্রলারগুলোর বিষয়টি এখনও আলোচনায় আসেনি। খুব শিগগিরই এ বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
দৈনিক শেষকথা Seshkatha News