নিজস্ব প্রতিবেদক | বেতাগী (বরগুনা) : বরগুনার বেতাগী উপজেলার ১নং বিবিচিনি ইউনিয়নর তালগাছিয়া দড়িরচর বাজার থেকে পূর্ব দিকে বড়পাশা খালের সাঁকো পর্যন্ত আনুমানিক ১০০ থেকে ১২০ ফুট রাস্তা মেরামতের জন্য টিআর প্রকল্পের আওতায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকল্পের কাজ নিয়ম অনুযায়ী শ্রমিক দিয়ে না করে বেকু (খননযন্ত্র) ব্যবহার করায় সরকারি সম্পদের ক্ষতি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাস্তার সামান্য অংশের কাজ করতে একটি বেকু দিয়ে প্রায় চার ঘণ্টা কাজ করা হয়। স্থানীয়দের দাবি, ঘণ্টাপ্রতি প্রায় ৩ হাজার ৫০০ টাকা হিসাবে মোট প্রায় ১৪ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। অথচ টিআর প্রকল্পের উদ্দেশ্য অনুযায়ী স্থানীয় নিম্ন আয়ের মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হওয়ার কথা ছিল। অভিযোগ রয়েছে, কাজের সময় তালগাছিয়া দড়িরচর বাজারের সরকারি টয়লেটের নিচ ও পাশ থেকে বেকু দিয়ে মাটি কেটে রাস্তা ভরাট করা হয়। এর ফলে টয়লেটের ভিত্তির নিচের মাটি সরে যায় এবং দুই দিন পর পুরো টয়লেটটি খালে ধসে পড়ে। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের ভাষ্য, বাজারে আসা পথচারী, পাশের মসজিদের মুসল্লি এবং মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে সরকারি টয়লেট ও হাউজ ব্যবহার করে আসছিলেন। বেকু দিয়ে মাটি কাটার কারণে সেটি ধসে পড়ায় সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। এ বিষয়ে কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তি লোকমান ফরাজি বলেন, "মাটি নেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত জায়গা ছিল না। তাই বেকু দিয়ে পাশ থেকে মাটি কেটে রাস্তায় ফেলা হয়। পরে টয়লেটের নিচ থেকে মাটি সরে গেলে সেটি খালে পড়ে যায়।"
এ বিষয়ে মুহ. সাদ্দাম হোসেন বলেন, "বিষয়টি সাংবাদিকদের মাধ্যমে জানতে পেরেছি। ঘটনাটি সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
স্থানীয়দের দাবি, প্রকল্প বাস্তবায়নে কোনো অনিয়ম বা অবহেলা হয়ে থাকলে তা তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত সরকারি টয়লেট দ্রুত পুনর্নির্মাণ করা হোক এবং ভবিষ্যতে টিআর প্রকল্পে শ্রমিক নিয়োগের বিধান যথাযথভাবে অনুসরণ নিশ্চিত করা হোক।
দৈনিক শেষকথা Seshkatha News