আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি: বরগুনার আমতলী উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে প্রায় অর্ধশত বছরের পুরনো একটি পরিত্যক্ত লঞ্চের ইঞ্জিন রহস্যজনকভাবে উধাও হয়ে গেছে। দীর্ঘদিন ধরে সংরক্ষিত এই ইঞ্জিনের হঠাৎ নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।
জানা গেছে, উপজেলা পরিষদ চত্বরে অবস্থিত টিটিসি হলরুমের পেছনের বারান্দায় বহু বছর ধরে ইঞ্জিনটি সংরক্ষিত ছিল। সম্প্রতি ভবনটিকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে অপসারণের কাজ শুরু হলে তার মধ্যেই ইঞ্জিনটি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠে এসেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৮৫ সালে আমতলী উপজেলা পরিষদের প্রথম চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন শামসুল আলম তালুকদার। সে সময় উপজেলা চেয়ারম্যানের চলাচলের জন্য একটি লঞ্চ বরাদ্দ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে লঞ্চটি পরিত্যক্ত হলে এর ইঞ্জিন উদ্ধার করে উপজেলা পরিষদ চত্বরে সংরক্ষণ করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা এই ইঞ্জিনটি স্থানীয়দের কাছে এলাকার ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত ছিল।
সম্প্রতি পুরাতন হলরুম ভবন অপসারণের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হলে কাজটি পান স্থানীয় ঠিকাদার ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি জালাল উদ্দীন ফকির। কাজের তদারকির দায়িত্বে ছিলেন আবুল কালাম প্যাদা। অভিযোগ রয়েছে, ভবন ভাঙার পর ইট ও রাবিশ অপসারণে ব্যবহৃত ট্রাকের মাধ্যমেই ইঞ্জিনটি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সরকারি সম্পদ হওয়া সত্ত্বেও ইঞ্জিনটি সংরক্ষণে ছিল না কোনো কার্যকর নজরদারি। প্রশাসনের অবহেলা ও গাফিলতির কারণেই এ ঘটনা ঘটেছে বলে তারা মনে করছেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে আবুল কালাম প্যাদা বলেন, “আমরা শুধু ভবন অপসারণের কাজ করেছি। ইঞ্জিন সরানোর সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।”
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ জাফর আরিফ চৌধুরী বলেন, “ঘটনাটি আমাদের নজরে এসেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের চিহ্নিত ও শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, এ ধরনের ঘটনা সরকারি সম্পদ রক্ষায় বড় ধরনের দুর্বলতার ইঙ্গিত বহন করে।
সংবাদ প্রেরক:
রাসেল মিয়া, আমতলী, বরগুনা থেকে,
দৈনিক শেষকথা Seshkatha News