বরগুনা জেলা প্রতিনিধি: বঙ্গোপসাগরে মাছের ঘাটতি, বৈরী আবহাওয়া, ঝড়-জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা ও দাদনের ঋণের চাপে চরম সংকটে পড়েছেন বরগুনার উপকূলীয় জেলেরা। এর মধ্যে নিম্নচাপের প্রভাবে সাগর উত্তাল হয়ে ওঠায় বেড়েছে নিরাপত্তাঝুঁকি। পরিস্থিতি বিবেচনায় আবহাওয়া স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত মাছ ধরার ট্রলার ও বাণিজ্যিক নৌযান সাগরে না পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে পাথরঘাটা কোস্ট গার্ড।পাথরঘাটা কোস্ট গার্ড দক্ষিণ জোনের স্টাফ অফিসার (অপারেশনস) লেফটেন্যান্ট কমান্ডার জামিলুর রহমান স্বাক্ষরিত জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। এতে সম্ভাব্য দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি এড়াতে জেলে, ট্রলার মালিক, ঘাট কমিটি ও বোট মালিক সমিতির সদস্যদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাথরঘাটা মৎস্য সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, কোস্ট গার্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী ট্রলার মালিকদের আপাতত সাগরে না যাওয়ার জন্য বলা হয়েছে।
তবে, শুধু বৈরী আবহাওয়াই নয়, দীর্ঘদিন ধরে সাগরে মাছের সংকটেও জেলেদের আয় কমে গেছে। কয়েক দিন সাগরে অবস্থান করেও অনেক ট্রলার কাঙ্ক্ষিত মাছ নিয়ে ফিরতে পারছে না। অথচ ডিজেল, বরফ, খাবার, জাল ও ট্রলার রক্ষণাবেক্ষণে বড় অঙ্কের খরচ হচ্ছে। ফলে অনেক জেলেকে লোকসান গুনতে হচ্ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দাদনের ঋণের বোঝা। সাগরে যাওয়ার খরচ মেটাতে মহাজন ও আড়তদারদের কাছ থেকে আগাম টাকা নিয়ে মাছ বিক্রি করে তা পরিশোধ করতে হয় জেলেদের। মাছ কম পাওয়ায় ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হয়ে অনেক পরিবার দীর্ঘদিন ঋণের চক্রে আটকে আছে।
এক জেলে জানান, ‘সাগরে না গেলে সংসার চলে না। আবার সাগরে গেলেও মাছ পাব কি না, নিরাপদে ফিরতে পারব কি না—তার কোনো নিশ্চয়তা নেই।’
জেলেরা মাছের প্রাপ্যতা বাড়াতে কার্যকর উদ্যোগ, সহজ শর্তে ঋণ, দাদননির্ভরতা কমানো, দ্রুত আবহাওয়া সতর্কবার্তা পৌঁছে দেওয়া এবং সাগরে নৌ-নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, সাময়িকভাবে সাগরে নৌযান চলাচল বন্ধের সিদ্ধান্ত নিরাপত্তার জন্য জরুরি হলেও দীর্ঘমেয়াদে সংকট মোকাবিলায় প্রয়োজন সমন্বিত ও টেকসই উদ্যোগ।
দৈনিক শেষকথা Seshkatha News