তালতলী প্রতিনিধি: বরগুনার তালতলীতে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল সমর্থকদের ফুটবল ম্যাচ শুরুর প্রাক্কালে খোকন কর্মকার নামে এক আর্জেন্টিনা সমর্থকের মৃত্যু হয়েছে, যা আয়োজকদের শোকের ছায়ায় ম্যাচটি স্থগিত করতে বাধ্য করেছে।
বরগুনার তালতলী সরকারি ডিগ্রি কলেজ মাঠে গত শুক্রবার বিকেলে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল সমর্থকদের মধ্যকার একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে খোকন কর্মকার (৪০) নামের এক আর্জেন্টিনা সমর্থকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। তালতলী উপজেলার মালিপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং পেশায় স্বর্ণ ব্যবসায়ী খোকন কর্মকার এইচএসসি-২০০০ ব্যাচের উদ্যোগে আয়োজিত এই প্রীতি ম্যাচের একজন অন্যতম দর্শক ও সমর্থক হিসেবে মাঠে উপস্থিত ছিলেন। ম্যাচ শুরুর আগে খেলোয়াড়রা যখন মাঠে অনুশীলন করছিলেন, ঠিক তখনই তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। উপস্থিত সহপাঠী ও দর্শকরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে তালতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন, যা স্থানীয় ক্রীড়াঙ্গনে এক শোকাবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। খোকন কর্মকারের এমন আকস্মিক মৃত্যুতে তার পরিবার ও বন্ধুদের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, আনন্দঘন পরিবেশে খেলাটি উপভোগ করার জন্য মাঠে উপস্থিত হয়েছিলেন খোকন, কিন্তু সেই উৎসব মুহূর্তের মধ্যেই বিষাদে রূপ নেয়। ভুক্তভোগীর পারিবারিক সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কোনো ধরনের পূর্বলক্ষণ ছাড়াই মাঠে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়া এবং দ্রুত মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়াটা ছিল অত্যন্ত বেদনাদায়ক। তার সহপাঠীরা জানিয়েছেন, খোকন ছিলেন তাদের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং খেলাধুলার প্রতি তার প্রবল উৎসাহ ছিল। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় মাঠে উপস্থিত শত শত মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও শোকের পরিবেশ তৈরি হয়, যার ফলে আয়োজকরা তাৎক্ষণিকভাবে নির্ধারিত প্রীতি ফুটবল ম্যাচটি স্থগিত ঘোষণা করতে বাধ্য হন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা এইচএসসি-২০০০ ব্যাচের সদস্যরা এবং স্থানীয়রা জানিয়েছেন, খেলা শুরুর আগেই এমন একটি মৃত্যু পুরো এলাকাকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। তালতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. সব্যসাচী দাস সানী জানান, ভুক্তভোগীকে হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে এবং প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে তিনি ম্যাসিভ স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েছিলেন। তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইদুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে, নিহতের মৃত্যু নিয়ে প্রাথমিকভাবে কোনো অসংগতি পাওয়া যায়নি এবং এটি একটি স্বাভাবিক মৃত্যু হিসেবেই প্রতীয়মান হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হলেও প্রাণ বাঁচাতে তা যথেষ্ট ছিল না বলে স্থানীয়রা মন্তব্য করেছেন। একটি আনন্দদায়ক ক্রীড়া আয়োজনকে কেন্দ্র করে এমন অকাল মৃত্যু স্থানীয় জনমনে গভীর প্রভাব ফেলেছে এবং খেলাধুলার আয়োজনে স্বাস্থ্য নিরাপত্তার প্রয়োজনীয়তাকে সামনে নিয়ে এসেছে। বয়স্ক বা শারীরিকভাবে দুর্বল ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এ ধরনের উত্তেজনাকর ক্রীড়া ইভেন্টে অংশগ্রহণের আগে শারীরিক সক্ষমতা যাচাইয়ের বিষয়টি পুনরায় আলোচনায় উঠে এসেছে। খোকন কর্মকারের এই অকাল প্রস্থান শুধুমাত্র তার পরিবারেই নয়, বরং তালতলীর ক্রীড়াপ্রেমী মহলেও এক অপূরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি করেছে, যা দীর্ঘ সময় পর্যন্ত স্থানীয়দের স্মৃতিতে বেদনার কারণ হয়ে থাকবে।
দৈনিক শেষকথা Seshkatha News