রাসেল মিয়া, আমতলী প্রতিনিধি (বরগুনা): বরগুনার আমতলী উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম চিলা গ্রামে আট বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে ৬৫ বছর বয়সী এক বৃদ্ধের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। গত মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সন্ধ্যায় এ ঘটনায় চিলা বাজারে সালিশ বৈঠক চলাকালে অভিযুক্ত হোসেন হাওলাদার ও শিশুটির বাবা মো. হেলাল বয়াতীকে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। অভিযুক্ত হোসেন হাওলাদার পশ্চিম চিলা গ্রামের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত গেন্দু হাওলাদারের ছেলে -
শিশুটির পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৯ আগস্ট দুপুরে খাবার খেয়ে ওই মাদ্রাসাছাত্রী তার সহপাঠী আল আমিন, হামিম, জুনায়েদ ও শারমিনের সঙ্গে হাজী কালু বিশ্বাসের বাড়ির জামে মসজিদে আরবি পড়তে যাচ্ছিল। পথে হোসেন হাওলাদার লেবু ও আমড়া দেওয়ার কথা বলে শিশুটিকে নিজের ঘরে নিয়ে যান বলে অভিযোগ। সেখানে দরজা বন্ধ করে শিশুটির সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হয় বলে পরিবারের অভিযোগ। পরিবারের দাবি, শিশুটির চিৎকার শুনে বাইরে থাকা তার সহপাঠী আল আমিন, হামিম ও জুনায়েদ ঘরের ফাঁক দিয়ে বিষয়টি দেখতে পায়। পরে সহপাঠী শারমিন ঘটনাটি শিশুটির চাচি হালিমা আক্তারকে জানায়। হালিমা বিষয়টি শিশুটির মা ফারজানা বেগমকে জানান। পরে বিষয়টি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানানো হলে তারা বিষয়টি মীমাংসার আশ্বাস দেন বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে। শিশুটির বাবা মো. হেলাল বয়াতী ও মা ফারজানা বেগম অভিযোগের বিষয়ে হোসেন হাওলাদারের কাছে জানতে চাইলে তিনি তাদের গালাগাল করেন বলে অভিযোগ। একই সঙ্গে তার বাড়ির সামনে দিয়ে শিশুদের মসজিদে আরবি পড়তে যেতে দেওয়া হবে না বলেও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। সর্বশেষ গত সোমবার (২৪ আগস্ট) হোসেন হাওলাদার ও তার স্ত্রী মমতাজ বেগম শিশুদের লাঠি নিয়ে ধাওয়া করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, ওই বাড়ির সামনে দিয়ে মসজিদে আরবি পড়তে যাওয়ার সময় শিশুদের ধাওয়া করা হয়। এদিকে স্থানীয় বাসিন্দা মো. আনেচ গাজী, মো. তোফায়েলসহ কয়েকজন দাবি করেন, হোসেন হাওলাদারের বিরুদ্ধে এর আগেও এক শিশুর সঙ্গে অনৈতিক আচরণের অভিযোগ উঠেছিল। ওই ঘটনায় বরগুনার আদালতে মামলাও হয়েছিল বলে তারা দাবি করেন। তবে আগের অভিযোগ ও মামলার বিষয়ে স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। শিশুটির পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার পর থেকে তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হোসেন হাওলাদার। তিনি বলেন, তাকে ফাঁসানোর জন্য মিথ্যা অভিযোগ তোলা হয়েছে। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এ ঘটনায় চিলা বাজারে স্থানীয়ভাবে সালিশ বৈঠক চলছিল। খবর পেয়ে আমতলী থানার পুলিশ সেখানে গিয়ে হোসেন হাওলাদার ও শিশুটির বাবা মো. হেলাল বয়াতীকে থানায় নিয়ে যায়। এ ঘটনায় শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।
আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ইয়াকুব হোসাইন বলেন, শিশুকে শ্লীলতাহানি অভিযোগে হোসেন হাওলাদার নামের একজনকে থানায় আনা হয়েছ। এঘটনায় মামলা রুজুর বিষয় প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
দৈনিক শেষকথা Seshkatha News