বেতাগী প্রতিনিধি: বরগুনার বেতাগী উপজেলায় ঘনঘন লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। দিনের পাশাপাশি রাতেও বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। বিশেষ করে গরমের মধ্যে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় দুর্ভোগ বেড়েছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই দিনের বিভিন্ন সময়ে বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। কখনো অল্প সময়ের জন্য বিদ্যুৎ আসার পর আবারও বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, গত তিন দিন ধরে প্রায় এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকলে পরের এক ঘণ্টা বন্ধ থাকছে। এতে বাসাবাড়ির স্বাভাবিক কার্যক্রমের পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্যেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। বেতাগী পল্লী বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় বিদ্যুতের গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ৪০ হাজার। বিদ্যুৎ না থাকায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি অনলাইনভিত্তিক কাজ, কম্পিউটার ও ইন্টারনেটনির্ভর কার্যক্রমেও বিঘ্ন ঘটছে। বিদ্যুৎনির্ভর যন্ত্রপাতি চালাতে না পারায় ছোট ব্যবসায়ী ও দোকানিদেরও কাজের গতি কমে গেছে।
বেতাগী পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী শান্তিরঞ্জন বেপারী বলেন, ‘গত জুন মাসে বিদ্যুৎ বিল এসেছে ১ হাজার ২৭৮ টাকা। জুলাই মাসে বিল এসেছে ১ হাজার ৮২৮ টাকা। অর্থাৎ ৫৫০ টাকা বেশি এসেছে। বিল বেশি এলেও কষ্ট ছিল না, যদি লোডশেডিং স্বাভাবিক মাত্রায় থাকত।’ স্থানীয় গ্রাহকদের অভিযোগ, নিয়মিত বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করেও কাঙ্ক্ষিত সেবা পাওয়া যাচ্ছে না। লোডশেডিংয়ের নির্দিষ্ট সময়সূচি না থাকায় দৈনন্দিন কাজের পরিকল্পনা করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। দ্রুত লোডশেডিং কমিয়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে পটুয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বেতাগী উপকেন্দ্রের এজিএম মুনতাসির বিন হাসিব বলেন, ‘আমাদের চাহিদার চেয়ে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ কম। এজন্য বারবার লোডশেডিং দিতে হচ্ছে।’ গ্রাহকদের দাবি, বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। একই সঙ্গে লোডশেডিংয়ের কারণ ও সম্ভাব্য সময়সূচি গ্রাহকদের জানানো হলে ভোগান্তি কিছুটা কমবে।
দৈনিক শেষকথা Seshkatha News