তালতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি: বরগুনার তালতলী উপজেলার নিশানবাড়ী ইউনিয়নজুড়ে কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রকে ঘিরে দূষণের অভিযোগ ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালুর পর থেকেই এলাকায় চর্মরোগ, অ্যালার্জি ও বিভিন্ন স্বাস্থ্যসমস্যা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। একই সঙ্গে দূষিত পানি ও বায়ুর কারণে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, পায়রা নদীতে কমে গেছে ইলিশসহ বিভিন্ন মাছের প্রাপ্যতা। এসব কারণে সামাজিক জীবনেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কয়লার ছাই ও অন্যান্য বর্জ্য যথাযথভাবে ব্যবস্থাপনা না করে বিভিন্ন স্থানে ফেলে রাখা হচ্ছে। এছাড়া কয়লা পরিবহনের ক্ষেত্রেও পরিবেশগত বিধি যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে না, ফলে ধুলাবালু ও দূষণ আশপাশের জনপদে ছড়িয়ে পড়ছে।
নিশানবাড়ী ইউনিয়নের বাসিন্দা সালেহা বেগম জানান, বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালুর পর থেকে গোসল করলেই শরীরে তীব্র চুলকানি শুরু হয়। বর্তমানে তার মুখসহ প্রায় পুরো শরীরে চর্মরোগ ছড়িয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, "মাঝেমধ্যে জ্বালাপোড়া এত বেড়ে যায় যে সহ্য করতে পারি না।" একই এলাকার তারা বানু বলেন, বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালুর পর থেকেই তার শরীরজুড়ে চুলকানি শুরু হয়েছে। অনেক চিকিৎসা করিয়েও স্থায়ীভাবে সুস্থ হতে পারেননি। তিনি বলেন, "আমরা গরিব মানুষ, নিয়মিত ওষুধ কেনা সম্ভব হয় না। জ্বালাপোড়া শুরু হলে ফ্যানের নিচে বসলে একটু আরাম লাগে, কিন্তু আমাদের ঘরেই বিদ্যুৎ নেই।"
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, এলাকায় পরিচালিত ২১ জন নারীর একটি জরিপে ১৭ জনের শরীরে বিভিন্ন ধরনের চর্মরোগের লক্ষণ পাওয়া গেছে। এছাড়া তালতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তথ্যমতে, গত দুই বছরে চর্মরোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা প্রায় তিন গুণ বেড়েছে। বর্তমানে প্রতিদিন চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের প্রায় ৩০ শতাংশই অ্যালার্জিজনিত সমস্যায় ভুগছেন বলে জানা গেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা আরও অভিযোগ করেন, দূষণের কারণে কৃষিজমির উৎপাদন কমে যাচ্ছে এবং পায়রা নদীর পানি দূষিত হওয়ায় আগের মতো ইলিশসহ বিভিন্ন মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। এতে কৃষক ও জেলেদের জীবিকাও হুমকির মুখে পড়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের পরিবেশগত প্রভাব নিয়ে নিরপেক্ষ ও বৈজ্ঞানিক তদন্ত করা হোক। পাশাপাশি বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, কয়লা পরিবহন এবং পরিবেশ সংরক্ষণে বিদ্যমান আইন যথাযথভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ রক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
দৈনিক শেষকথা Seshkatha News