বরগুনার পাথরঘাটায় উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন করার পরও বিলের পাওনা টাকা পরিশোধ না করার অভিযোগে পৌরসভার সাবেক মেয়রসহ চার কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন এক ঠিকাদার।

মঙ্গলবার পাথরঘাটা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ভুক্তভোগী ঠিকাদার মো. সেলিম ফরাজি এ মামলা দায়ের করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পাথরঘাটা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. মুবিন।
মামলার আসামিরা হলেন— পাথরঘাটা পৌরসভার সাবেক মেয়র মো. আনোয়ার হোসেন আকন, পৌরসভার হিসাবরক্ষক মো. বেলায়েত হোসেন, নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মুজিবুল হায়দার এবং সাবেক পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দিন খান।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালের ১২ এপ্রিল তৎকালীন মেয়র আনোয়ার হোসেন আকনের দায়িত্বকালে ১৪ লাখ ৫৮ হাজার ৬৭৪ টাকা ব্যয়ে একটি উন্নয়নমূলক কাজের কার্যাদেশ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স রনি এন্টারপ্রাইজ। পরে পৌরসভার বিশেষ নির্দেশনায় গত বছরের ১১ সেপ্টেম্বর কাজটি সম্পন্ন করা হয়।
মামলার আরজিতে অভিযোগ করা হয়, কাজ শেষ হওয়ার পরও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা পরস্পর যোগসাজশে ঠিকাদারের পাওনা ৫ লাখ ৭৮ হাজার ৬৭৪ টাকা পরিশোধ না করে দীর্ঘদিন ধরে টালবাহানা করে আসছেন। একাধিকবার যোগাযোগ করেও বিলের অর্থ না পেয়ে শেষ পর্যন্ত তিনি আদালতের দ্বারস্থ হন।
মেসার্স রনি এন্টারপ্রাইজের পরিচালক ও মামলার বাদী সেলিম ফরাজি বলেন, “বৈধ প্রক্রিয়ায় টেন্ডার পেয়ে কাজ সম্পন্ন করেছি। কিন্তু আমার ন্যায্য পাওনা আটকে রেখে আমাকে হয়রানি করা হচ্ছে। পাওনা টাকা আদায় ও ন্যায়বিচারের আশায় মামলা করেছি।”
পাথরঘাটা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে মামলাটি আমলে নিয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সমন জারি করেছেন।
এদিকে সাবেক মেয়র ও কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের ঘটনায় পাথরঘাটা শহরে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযুক্ত সাবেক মেয়র ও হিসাবরক্ষকের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা সাড়া দেননি। তবে নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মুজিবুল হায়দার জানিয়েছেন, ঠিকাদার সেলিম ফরাজির প্রতিষ্ঠান ‘রনি এন্টারপ্রাইজ’ পৌরসভায় একাধিক কাজ করেছে, তবে তার মোট পাওনার বিষয়ে তিনি অবগত নন।
দৈনিক শেষকথা Seshkatha News