নিজস্ব প্রতিবেদক, বেতাগী (বরগুনা): বরগুনার বেতাগী পৌরসভা ও সদর ইউনিয়নের কয়েকটি এলাকায় বিদ্যুৎ লাইনের একটি ফিউজ বিকল হওয়ার পর তা মেরামতে প্রায় ১৩ ঘণ্টা সময় লাগায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন হাজারো গ্রাহক। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎহীন থাকায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, বাসাবাড়ি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় সেবামূলক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। একটি সাধারণ কারিগরি ত্রুটি মেরামতে এত দীর্ঘ সময় লাগায় বিদ্যুৎ বিভাগের সেবার মান ও দায়িত্বশীলতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত রোববার (৫ জুলাই) রাত আনুমানিক ৩টার দিকে বেতাগী পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের একাংশ এবং সদর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কয়েকটি এলাকায় বিদ্যুৎ লাইনের একটি ফিউজ বিকল হয়ে যায়। এতে মুহূর্তেই ওই এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় ১৩ ঘণ্টা পর বিকেলের দিকে বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপন করা হয়।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বিদ্যুৎ বিভ্রাটের পর থেকেই তারা বেতাগী বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের জরুরি নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগ করেন। প্রতিবারই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলেও দীর্ঘ সময় পর্যন্ত কোনো কর্মকর্তা বা কারিগরি কর্মী ঘটনাস্থলে পৌঁছাননি। ফলে প্রচণ্ড গরমে শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েন। এছাড়া মোবাইল ফোন চার্জ, পানির মোটর এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি দীর্ঘ সময় অচল থাকায় জনজীবনে স্থবিরতা নেমে আসে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, বিদ্যুৎ না থাকায় দোকানপাট, ফ্রিজনির্ভর ব্যবসা, কম্পিউটার ও অনলাইন সেবাকেন্দ্র কার্যত অচল হয়ে পড়ে। কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও পাঠদান ব্যাহত হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসিন্দা বলেন, “রাত থেকেই বারবার বিদ্যুৎ অফিসে ফোন করেছি। প্রতিবারই বলা হয়েছে ‘আসছি’, ‘দেখছি’। কিন্তু দুপুর পর্যন্ত কাউকে দেখা যায়নি। একটি ফিউজ বদলাতে ১৩ ঘণ্টা লাগবে, এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।”
এ বিষয়ে বেতাগী বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মো. মুনতাসীর বিন হাসিব বলেন, বৃষ্টির কারণে উপজেলার আরও কয়েকটি বিদ্যুৎ লাইনে একই সময়ে ত্রুটি দেখা দিয়েছিল। ফলে একাধিক স্থানে একযোগে মেরামতকাজ পরিচালনা করতে হওয়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে কিছুটা বেশি সময় লেগেছে।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যুৎ বিভাগের জরুরি সেবা পর্যাপ্ত কার্যকর না থাকায় গ্রাহকদের বারবার এমন ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে। তারা জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত জনবল, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম এবং কার্যকর তদারকির দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি ঘটনার তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বানও জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
দৈনিক শেষকথা Seshkatha News