আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি: বরগুনার আমতলী উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ব্যবস্থাপনা কমিটির রেজুলেশন ও টেন্ডার প্রক্রিয়া ছাড়াই ৭টি মেহগনি গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে প্রধান শিক্ষক নিপা আক্তারের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য, অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। গত মঙ্গলবার (৩০ জুন) সরেজমিনে উপজেলার গুলিশাখালী ইউনিয়নের ডালাচারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয় প্রাঙ্গণের বড় ও মাঝারি আকারের ৭টি মেহগনি গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রধান শিক্ষক নিপা আক্তার নিজে উপস্থিত থেকে স্থানীয় শ্রমিক দিয়ে গাছগুলো কাটিয়েছেন। পরে বিষয়টি ধামাচাপা দিতে কাটা গাছগুলো দ্রুত সরিয়ে ফেলা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, কেটে ফেলা গাছগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২০ হাজার টাকা। কোনো ধরনের ব্যবস্থাপনা কমিটির অনুমোদন বা সরকারি টেন্ডার প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই গাছ কাটা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য ও অভিভাবকদের অভিযোগ, বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে প্রধান শিক্ষক নিপা আক্তারের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম জানান, অভিযোগের বিষয়ে প্রধান শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত শেষে বিধি অনুযায়ী প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ জাফর আরিফ চৌধুরী বলেন, “বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
দৈনিক শেষকথা Seshkatha News