আমতলী প্রতিনিধি: বরগুনার আমতলীতে গাজী সম্রাট পরিবহনের বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী দুই কিশোর নিহত হয়েছে, গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছে আরও একজন।
গত শুক্রবার রাত ৮টার দিকে বরগুনার আমতলী উপজেলার ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়কের শাখারিয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ঘাতক বাস ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই আরোহীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার লালুয়া গ্রামের বাসিন্দা মো. সজীব এবং তার শ্যালক সাইফুল ইসলাম ঘটনাস্থল ও পরবর্তীতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। কুয়াকাটা থেকে ছেড়ে আসা গাজী সম্রাট পরিবহনের একটি দ্রুতগামী যাত্রীবাহী বাস মোটরসাইকেলটিকে পেছন থেকে সজোরে ধাক্কা দিলে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরপরই ঘাতক বাসের চালক ও তার সহকারী দ্রুত বাসটি ফেলে রেখে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে তাদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। এই ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনাটি মহাসড়কে অনিয়ন্ত্রিত যান চলাচল এবং চালকদের চরম গাফিলতির একটি নগ্ন চিত্র ফুটিয়ে তুলেছে, যা স্থানীয় জনমনে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মোটরসাইকেল চালক সজীব হাওলাদার তার দুই শ্যালক সাইফুল ইসলাম ও আছাদুল ইসলামকে নিয়ে আমতলী থেকে কলাপাড়ার দিকে যাচ্ছিলেন। শাখারিয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পৌঁছানো মাত্রই ঘাতক বাসটি কোনো ধরনের সতর্কবার্তা ছাড়াই মোটরসাইকেলটিকে চাপা দেয়। ঘটনার ভয়াবহতায় ঘটনাস্থলেই সজীবের মৃত্যু হয় এবং গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করা সাইফুল ও আছাদুলকে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সাইফুলকে মৃত ঘোষণা করেন। বর্তমানে আহত আছাদুল ইসলাম হাসপাতালের বিছানায় মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে। ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, মহাসড়কের এই অংশে বাস চালকদের বেপরোয়া গতি এবং ট্রাফিক আইন অমান্য করার প্রবণতা নিত্যদিনের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় সাধারণ যাত্রীরা নিয়মিত এমন হত্যাকাণ্ডের শিকার হচ্ছেন, যেখানে চালকদের কোনো জবাবদিহি করার প্রয়োজন পড়ছে না।
ঘটনার প্রেক্ষিতে আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু সাহাদাৎ মো. হাচনাইন জানান, পুলিশ ইতিমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং ঘাতক বাসটিকে জব্দ করা হয়েছে। তবে চালক ও তার সহকারীর অবস্থান শনাক্ত করতে পুলিশের বিশেষ দল কাজ শুরু করেছে। এদিকে, বাস মালিক সমিতির পক্ষ থেকে দায়সারা বক্তব্য প্রদান করা হলেও চালকদের বেপরোয়া আচরণের বিষয়ে কোনো কার্যকর পদক্ষেপের কথা শোনা যায়নি। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে আইনি প্রক্রিয়া চলমান থাকার আশ্বাস দেওয়া হলেও স্থানীয়রা মনে করছেন, মহাসড়কে নিয়মিত পুলিশি টহল এবং গতিসীমা নিয়ন্ত্রণের কঠোর নজরদারি না থাকলে এমন প্রাণহানি কমানো অসম্ভব। দুর্ঘটনাপ্রবণ এই এলাকাটিতে গতি নিয়ন্ত্রক বা পর্যাপ্ত ট্রাফিক সংকেত না থাকাও এই ধরনের দুর্ঘটনার অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি পরিবহন খাতে বিদ্যমান বিশৃঙ্খলা এবং চালকদের অদক্ষতা ও বেপরোয়া মানসিকতার চরম বহিঃপ্রকাশ। প্রতিনিয়ত ঝরে পড়া এসব প্রাণ কেবল পরিসংখ্যানের খাতায় সীমাবদ্ধ না থেকে মহাসড়কগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি বড় সতর্কবার্তা হওয়া উচিত। আইনের যথাযথ প্রয়োগ এবং ঘাতকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না করা গেলে ভবিষ্যতে সড়কপথে সাধারণ মানুষের চলাচল আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠবে, যা জননিরাপত্তার জন্য চরম হুমকি হিসেবে পরিগণিত হবে।
দৈনিক শেষকথা Seshkatha News