স্টাফ রিপোর্টার, বরগুনা: দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ইতোমধ্যে ৪২টি জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে সরকার। তবে এখনো বরগুনা জেলা পরিষদে প্রশাসক ঘোষণা না হওয়ায় জেলায় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা ও কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে বিএনপির নেতা-কর্মীদের মধ্যে কে হচ্ছেন বরগুনা জেলা পরিষদের সম্ভাব্য প্রশাসক—এ নিয়ে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা ও হিসাব-নিকাশ।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় রয়েছেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরগুনা-১ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. নজরুল ইসলাম মোল্লা। একই সঙ্গে আলোচনায় রয়েছেন জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. ফজলুল হক মাস্টার।
স্থানীয় পর্যায়ের অনেক নেতা-কর্মী মনে করছেন, দলের সাংগঠনিক শক্তি ও অভিজ্ঞতার বিচারে এ দুই নেতার যেকোনো একজনকে প্রশাসকের দায়িত্ব দেওয়া হলে তা রাজনৈতিকভাবে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
এছাড়াও জেলা বিএনপির সদস্য সচিব হূমায়ুন হাসান শাহীন এবং দলের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি এজেড এম সালেহ ফারুকের নামও সম্ভাব্য তালিকায় আলোচনায় রয়েছে। দলীয় রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা এবং সাংগঠনিক দক্ষতার কারণে তাদেরও প্রশাসক হিসেবে বিবেচনায় রাখা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
সম্প্রতি নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছেন ব্যবসায়ী ও বরগুনা-২ আসনে বিএনপি প্রার্থীর প্রধান নির্বাচন সমন্বয়কারী আলহাজ্ব রুহুল আমিন শরীফ। তিনি জাতীয় সংসদের সাবেক চিফ হুইপ আলহাজ্ব নূরুল ইসলাম মনির ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত।
উল্লেখ্য, বরগুনা সদরে এই আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী বিজয়ী হওয়ায় জেলা পরিষদ প্রশাসক নিয়োগের বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
জেলার সাধারণ মানুষ ও সুশীল সমাজের অনেকেই মনে করছেন, সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা এবং আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী ও অভিজ্ঞ নেতাকে এ পদে নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন।
এদিকে প্রশাসক নিয়োগ নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা না আসায় জেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হলে জেলার উন্নয়ন কার্যক্রমে গতি আসবে এবং স্থানীয় রাজনীতিতেও স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে।
দৈনিক শেষকথা Seshkatha News