তালতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি: বরগুনার তালতলী থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুর রহমান এবং পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. শরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে ওঠা ক্ষমতার অপব্যবহার, অসদাচরণ ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো গুরুতর অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে পুলিশের মহাপরিদর্শককে (আইজিপি) নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, গত ২১ এপ্রিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আইন-৩ শাখা থেকে এ সংক্রান্ত একটি চিঠি পুলিশ সদর দপ্তরে পাঠানো হয়। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) মধ্যরাতে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জেলাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে অভিযুক্ত দুই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, অপরাধীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় প্রদান, দায়িত্বে অবহেলা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো সুনির্দিষ্ট অভিযোগের উল্লেখ রয়েছে।
সূত্র জানায়, বরগুনা-১ (সদর, আমতলী, তালতলী) আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ওমর আব্দুল্লাহ শাহীন ওই দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ধরে ৪৮ পৃষ্ঠার একটি বিস্তৃত অভিযোগপত্র স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জমা দেন। ওই অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্তের এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব মো. শফিউল আলম স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়েছে, অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশক্রমে আইজিপির কাছে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই দুই কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনকালে তালতলীতে সাধারণ মানুষ নানাভাবে হয়রানির শিকার হয়েছেন, অন্যদিকে কিছু অপরাধী বিশেষ সুবিধা পেয়েছে। ফলে মন্ত্রণালয়ের তদন্ত নির্দেশে ভুক্তভোগীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
এ বিষয়ে তদন্ত শেষে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী ব্যবস্থা নেয়, সেদিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছেন তালতলীবাসী।
দৈনিক শেষকথা Seshkatha News