তালতলী প্রতিনিধি: বরগুনার তালতলী উপজেলা সহকারী নির্বাচন অফিসার মোসা. রুমা আক্তারের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা ও অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। নির্ধারিত অফিস সময় উপেক্ষা করে নিয়মিত দেরিতে অফিসে আসায় সাধারণ মানুষের সেবা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন সেবাপ্রার্থীরা।
সরকারি নিয়মানুযায়ী সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত অফিস খোলা থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা প্রায় প্রতিদিনই সকাল সাড়ে ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে উপস্থিত হন। ফলে নির্ধারিত সময়ে কাজ শুরু না হওয়ায় সাধারণ মানুষকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। গত রোববার (১২ এপ্রিল) তিনি সকাল ৯টা ২০ মিনিটে অফিসে আসেন, যা নির্ধারিত সময়ের পর। এতে সেবা নিতে আসা নাঈমসহ একাধিক ব্যক্তি ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন, “আমরা সকাল ৯টায় এসে কর্মকর্তাকে পাইনি। এতে সেবা গ্রহণে বিলম্ব হয়েছে এবং দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়েছে।”
সচেতন মহল মনে করছেন, সরকারি অফিসের সময়সূচি অমান্য করা শুধু শৃঙ্খলা লঙ্ঘন নয়, এটি জনগণের মৌলিক সেবাযোগের অধিকার ক্ষুণ্ন করে। তারা দ্রুত তদন্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে সহকারী নির্বাচন অফিসার মোসা. রুমা আক্তার বলেন, “আমি মাঠপর্যায়ে তদন্তে থাকি এবং জেলা অফিসসহ বিভিন্ন স্থানে যেতে হয়, তাই সময়মতো অফিসে আসা সম্ভব হয় না।” তবে সকাল ৯টা ১৬ মিনিটে উপস্থিতির বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তিনি সাংবাদিকের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন বলে অভিযোগ আছে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাচন অফিসার মো. ফারুক হোসেন বলেন, “আমি ছুটিতে আছি এবং অসুস্থ। তবে বিষয়টি জেনেছি। তদন্ত করে যথাযথ কর্তৃপক্ষে প্রতিবেদন দেওয়া হবে।” জেলা নির্বাচন অফিসার মো. আতিকুল ইসলাম জানান, “অভিযোগ পেয়েছি। তদন্তের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে শো-কজ করা হবে।”
এ ঘটনায় তালতলীতে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগীরা দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছেন।
দৈনিক শেষকথা Seshkatha News