বেতাগী প্রতিনিধি: বরগুনার বেতাগী উপজেলায় একই রাতে দুটি পৃথক বাড়িতে দুঃসাহসিক ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ডাকাতদের গুলিতে এক যুবক গুরুতর আহত হয়েছেন। অন্য একটি বাড়িতে গৃহকর্তা ও তার স্ত্রীকে মারধর করে জখম করা হয়েছে। ঘটনাগুলোর পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে,গত শুক্রবার (১৫ মে) রাত আনুমানিক ২টা ১০ মিনিটে বেতাগী সদর ইউনিয়নের বেইলিব্রিজ এলাকায় অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য খলিলুর রহমানের বাড়িতে প্রথম ডাকাতির ঘটনা ঘটে।
সশস্ত্র ডাকাত দল ঘরে প্রবেশ করলে খলিলুর রহমানের ছেলে মো. রিফাত বিন রিমন (২৫) প্রায় ১০ জন ডাকাতের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। এ সময় ডাকাতদের সঙ্গে তার ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে ডাকাতরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এতে রিমন পায়ে গুলিবিদ্ধ হন।
পরে ডাকাত দল ঘর থেকে নগদ ৭৫ হাজার টাকা ও দেড় ভরি স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে যায়। আহত রিমনকে প্রথমে বেতাগী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে বরিশাল হয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়।
একই রাতে উপজেলার হোসনাবাদ ইউনিয়নের উত্তর হোসনাবাদ গ্রামে আলতাফ ফকিরের বাড়িতে দ্বিতীয় ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ডাকাতরা ঘরে ঢুকে গৃহকর্তা আলতাফ হোসেন (৬৫) ও তার স্ত্রী ফরিদ বেগমকে (৫৫) মারধর করে আহত করে। এ সময় ডাকাত দল ওই বাড়ি থেকে নগদ ১ লাখ টাকা ও ৩ ভরি স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে যায়।
ঘটনার খবর পেয়ে বেতাগী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হারুন-অর-রশিদ হাওলাদার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। শনিবার সকালে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. সালাউদ্দিনও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
ডাকাতির পরপরই পুলিশ বিভিন্ন এলাকায় সাঁড়াশি অভিযান চালায়। শনিবার সকালে ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন উত্তর হোসনাবাদ গ্রামের সগীর আলম খলিফা (৪৫), তার ছেলে সৌরভ আলম খলিফা (১৮) এবং বেতাগী শহরের অটোচালক সাইফুল (২০)।
বেতাগী থানার ওসি মো. হারুন-অর-রশিদ হাওলাদার জানান, গ্রেপ্তার তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ডাকাতির সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তার এবং লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
দৈনিক শেষকথা Seshkatha News