আমতলী প্রতিনিধি: বরগুনার আমতলীতে পৈত্রিক জমি দখলের জের ধরে সৎ ভাইয়ের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে বেল্লাল গাজী ও তার স্ত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন, যা এলাকায় তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে।
বরগুনার আমতলী উপজেলার সদর ইউনিয়নের ছোট্ট নীলগঞ্জ গ্রামে গত বুধবার সকাল ৮টার দিকে পৈত্রিক জমি দখলকে কেন্দ্র করে এক বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। ভুক্তভোগী কৃষক বেল্লাল গাজী এবং তার স্ত্রীকে তাদেরই সৎ ভাই ও তার সহযোগীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরেই পৈত্রিক ভিটার মালিকানা নিয়ে বেল্লাল গাজীর সঙ্গে তার সৎ ভাইয়ের বিরোধ চলছিল। ঘটনার দিন সকালে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে বেল্লাল গাজীর বাড়িতে অতর্কিত হামলা চালায় এবং জমি দখলের উদ্দেশ্যে তাদের ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে চড়াও হয়। হামলার আকস্মিকতায় ঘটনাস্থলেই দম্পতি রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং অভিযুক্তরা জমি দখলের হুমকি দিয়ে দ্রুত এলাকা ত্যাগ করে। ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করেন, যেখানে তাদের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব খাটিয়ে বেল্লাল গাজীর পৈত্রিক জমি জবরদখলের পায়তারা করছিল এবং একাধিকবার প্রাণনাশের হুমকিও দিয়েছে। বেল্লাল গাজী অভিযোগ করেন যে, আইনের আশ্রয় নেওয়ার পরেও প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় থাকা অভিযুক্তরা কোনো তোয়াক্কা না করে আজ সকালে সরাসরি বাড়িতে ঢুকে তাদের ওপর হামলা চালায়। স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, হামলার সময় অভিযুক্তরা দেশীয় ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করেছে, যার ফলে বেল্লাল গাজী ও তার স্ত্রীর শরীরের বিভিন্ন স্থানে গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে। এ ধরনের ঘটনা নিছক জমি সংক্রান্ত বিরোধ নয়, বরং এটি একটি পরিকল্পিত নৃশংসতা হিসেবে চিহ্নিত করে এলাকাবাসী তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। ভুক্তভোগীদের দাবি, পৈত্রিক সম্পত্তিতে তাদের বৈধ অধিকার থাকা সত্ত্বেও প্রতিপক্ষের পেশিশক্তির কাছে তারা অসহায় হয়ে পড়েছেন এবং সঠিক বিচার না পেলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। তবে স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, কেবল আইনি প্রক্রিয়ায় সীমাবদ্ধ না থেকে ঘটনার মূল কারণ অনুসন্ধান করে দ্রুত জমি সংক্রান্ত বিরোধের নিষ্পত্তি না করলে এ ধরনের সামাজিক অস্থিরতা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।
এই হামলার ঘটনাটি বরগুনার গ্রামীণ জনপদে জমি সংক্রান্ত বিরোধের ভয়াবহতাকে পুনরায় সামনে নিয়ে এসেছে, যা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও অধিকারের প্রশ্নে বড় ধরনের সংশয় তৈরি করেছে। পৈত্রিক ভিটা নিয়ে আপন ভাইদের এমন সহিংস আচরণ সামাজিক সম্পর্কের অবনতির পাশাপাশি আইন-শৃঙ্খলার চরম অবক্ষয়কেই নির্দেশ করে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে এ ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের সংঘাতের জন্ম দিতে পারে। ভুক্তভোগী পরিবার এখন ন্যায়বিচারের আশায় প্রহর গুনছে, আর আমতলী তথা পুরো বরগুনা জেলাজুড়ে এই ন্যক্কারজনক ঘটনাটি সাধারণ মানুষের মধ্যে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
দৈনিক শেষকথা Seshkatha News