বরগুনার উপকূলীয় এলাকায় জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্যে বাস্তবায়িত একটি বড় প্রকল্প ঘিরে দেখা দিয়েছে গুরুতর প্রশাসনিক সমন্বয় সংকট। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কর্তৃক চীনের অর্থায়নে বাস্তবায়িত বেড়িবাঁধ উন্নয়ন কার্যক্রমে বহু স্থানে পূর্বের পাকা সড়ক কেটে বাঁধ উঁচু করা হলেও, দীর্ঘ ছয় বছরেও সেগুলো পুনরায় পাকাকরণের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এতে জেলার লক্ষাধিক মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন-

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের আওতায় জেলার বিভিন্ন পোল্ডারে ১০০ থেকে ১৫০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ উঁচু ও শক্তিশালী করা হয়েছে। পাশাপাশি অর্ধশতাধিক স্লুইস গেট নির্মাণ ও সংস্কার করা হয়েছে। তবে উন্নয়ন কার্যক্রমের সময় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) কর্তৃক পূর্বে নির্মিত পাকা সড়কগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে বর্তমানে কাঁচা ও দুর্গম সড়কে পরিণত হয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, পাউবোর দায়িত্ব মূলত বাঁধ নির্মাণ পর্যন্ত সীমাবদ্ধ; সড়ক পাকাকরণ তাদের কাজের আওতায় পড়ে না। অন্যদিকে এলজিইডির নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো সড়ক একবার ‘পাকা’ হিসেবে নথিভুক্ত হলে নতুন প্রকল্প অনুমোদন ছাড়া সেটিকে পুনরায় পাকাকরণের সুযোগ থাকে না। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত এসব সড়কের সংস্কার কার্যক্রম বর্তমানে অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে।
সরেজমিনে বরগুনা সদর, আমতলী উপজেলা, তালতলী উপজেলা ও পাথরঘাটা উপজেলা এলাকার বিভিন্ন স্থানে দেখা গেছে, বর্ষা মৌসুমে কাদা আর শুকনো মৌসুমে ধুলাবালির কারণে জনজীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। এতে শ্বাসকষ্ট ও এলার্জিসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। একই সঙ্গে কৃষিপণ্য পরিবহনে বিলম্ব হওয়ায় স্থানীয় অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
এ বিষয়ে বরগুনা জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. নজরুল ইসলাম মোল্লা বলেন, “উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ নিরসনে মন্ত্রণালয় পর্যায়ে পাউবো ও এলজিইডির দ্রুত সমন্বয় এবং কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি।”
দৈনিক শেষকথা Seshkatha News