আমতলী (বরগুনা): বরগুনার আমতলী উপজেলা প্রশাসন ও আমতলী পৌরসভার কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক পক্ষপাত, অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি বক্তব্য প্রকাশ করা হয়েছে। ওই বক্তব্যে অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানানো হয়। তবে অভিযোগগুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অস্বীকার করেছে।
সম্প্রতি ফেসবুক লাইভে প্রকাশিত ওই বক্তব্যে একজন স্থানীয় রাজনৈতিক নাম পরিচয়ধারী ব্যক্তি অভিযোগ করেন, আমতলী উপজেলা প্রশাসনের কর্মকাণ্ডে রাজনৈতিক নিরপেক্ষতার অভাব রয়েছে। তাঁর দাবি, কিছু রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের প্রতি প্রশাসনের সহযোগিতামূলক মনোভাব থাকলেও অন্য একটি দলের নেতাকর্মীদের আবেদন ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় যথাযথ গুরুত্ব পাচ্ছে না। অনেক আবেদন গ্রহণ করা হলেও সেগুলোর কার্যকর নিষ্পত্তি হচ্ছে না বলেও তিনি অভিযোগ করেন। একই বক্তব্যে আমতলী পৌরসভার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগও তোলা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, পৌরসভার উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন খাতে বরাদ্দকৃত সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা হয়নি।
এছাড়াও একটি লিখিত অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও উপ-প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে ঈদগাহ মাঠের মেহরাব নির্মাণ, পৌরসভার সামনে ভবন নির্মাণ, হাট-বাজার ইজারা, জেলেদের জন্য বরাদ্দকৃত চাল বিতরণ, পানি ভবনের মালামাল ক্রয়, মশক নিধন কার্যক্রম, হোল্ডিং প্লেট সরবরাহ, ইউ-ড্রেন নির্মাণ এবং ল্যাম্পপোস্ট স্থাপন প্রকল্পে অনিয়ম, দুর্নীতি ও সরকারি অর্থ অপব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়েছে।
অভিযোগে আরও দাবি করা হয়েছে, প্রায় ১৮ কোটি টাকার ইউ-ড্রেন নির্মাণ প্রকল্প এবং প্রায় ২ কোটি টাকার ল্যাম্পপোস্ট স্থাপন প্রকল্পে নিম্নমানের কাজ করা হয়েছে। পাশাপাশি ঠিকাদারি কার্যক্রমে অনিয়ম, উৎকোচ গ্রহণ এবং সরকারি সম্পদের অপব্যবহারের অভিযোগও উত্থাপন করা হয়েছে। অভিযোগকারী এসব বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আমতলীর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক মুহাম্মদ জাফর আরিফ চৌধুরী বলেন, "এ বিষয়ে আমি কোনো কথা বলতে চাই না। ওই ভদ্রলোক বিভিন্ন সময় অনেকের নামেই এ ধরনের ফেসবুক পোস্ট করে থাকেন!"
এ বিষয়ে আমতলী পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. মশিউর রহমান বলেন, "আমতলী পৌরসভার সকল উন্নয়নমূলক কাজ সরকারি বিধি-বিধান ও নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। অনেক প্রকল্পের কাজ এখনো চলমান রয়েছে। এ পর্যন্ত কোনো প্রকল্পে দুর্নীতি বা অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি এবং এ ধরনের কোনো ঘটনাও ঘটেনি।"
অভিযোগ প্রসঙ্গে প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. মামুনুর রশীদ বলেন, "সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উত্থাপিত অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ মনগড়া, মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। বাস্তবে এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। আমাদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে বিভ্রান্তিকর ও বানোয়াট তথ্য প্রচার করা হচ্ছে।"
উল্লেখ্য, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উত্থাপিত এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কোনো তদন্ত সংস্থার আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা প্রতিবেদন এখন পর্যন্ত প্রকাশিত হয়নি - পরবর্তীতে কোন তথ্য পাওয়া গেলে প্রকাশ করা হবে। ধন্যবাদ:
দৈনিক শেষকথা Seshkatha News